বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

কোরবানির পশুর দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

জৈষ্ঠ প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ১৭৬ জন নিউজটি পড়েছেন
পশু কেনা-বেচা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ২০ সহস্রাধিক গরুর পরিচর্যা করে তৈরি করছেন খামারিরা। কিন্তু গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, বাজার মন্দা, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পশুর হাট স্থাপনে বিধিনিষেধ ও ন্যায্য মূল্য নিয়ে খামারিরা শঙ্কায় রয়েছেন। গতবারের মতো এবারও তারা ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। আর সিলেটের সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে গরু এলে এবার বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে প্রন্তীক খামারিরা।

বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিবছরই ধারাবাহিকভাবে বিয়ানীবাজার উপজেলায় গরু খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। খামারের গরু গুলো প্রতি বছরই দেশের বিভিন্নস্থানে কোরবানির পশুর চাহিদার অনেকটাই পূরণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও প্রস্তুত খামারিরা। কিছু মৌসুমী খামারি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ স্টেরয়েড হরমোন ব্যাবহার করে দ্রুত মোটাতাজা করত। কিন্তু এই কাজে জনসচেতনতা ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের তৎপরতার কারণে চলতি বছর এই প্রবণতা কম। এ বছর প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, সবুজ ঘাস, বিভিন্ন প্রকারের ভুষি, খৈল এবং ভিটামিন খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গো-খাদ্য বস্তা প্রতি ১৫০ টাকা বেড়েছে। গমের ছালের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০ টাকা। অ্যাঙ্কর ডালের ভূষি ৮০০ টাকা এবং খড় কিনতে হচ্ছে ৬০০ টাকা মণ দরে। প্রতি শতাংশ জমির জাম্বু ঘাস কিনতে হয় ৩০০ টাকা, নেপিয়ার ঘাস ৪০০ টাকা দরে। এরপরও ঈদের কথা ভেবে খামারিরা বাড়তি বিনিয়োগ করছেন।

গরু খামারি জাহেদ আহমদ বলেন, এ বছর কোরবানি উপলক্ষ্যে কয়েকটি গরু তৈরি করেছি। আমার কাছে মূলত: মাঝারি আকারের গরু বেশি। সব হিসেব মিলিয়ে প্রতিটি গরু ৬৫ হাজার করে বিক্রি করতে পারলে কিছু টাকা লাভ করা যাবে। এবার করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। যে কারণে সাধারণ ক্রেতারা এবার খামার থেকেই কোরবানির পশু সংগ্রহে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আর পশু খাদ্যর দাম বৃদ্ধির জন্য পশুর দাম এবার বেশি।

কোরবানির পশু নিয়ে কথা হয় পৌরশহরের খাসা গ্রামের ছারওয়ার হোসেনের সাথে তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছর ২-৩টি গরু কোরবানি দিয়ে থাকি। কারণ অমার পরিবারের সকল সদস্য প্রবাসে থাকেন। তাদের কোরবানি দেশেই সম্পন্ন হয় প্রতি বছর। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কি হবে জানি না।কোরবানি নিয়ে এখনো প্রবাসীরা কিছু জানাননি। তবে কোরবানি দিলেও বাজেট কম হবে এবার।

বিয়ানীবাজার উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মোক্তাদির বিল্লা বলেন, কোরবানিকে সামনের রেখে বিয়ানীবাজরে প্রায় ২০ হাজারের মতো পশু তৈরি করা হয়েছে। কৃষক ও খামারিরা প্রাকৃতিকভাবে পশু লালন-পালন করেছেন। করোনার সংক্রমণ না কমলে গরুর হাটেও থাকবে সরকারি বিধিনিষেধ। লকডাউনে পশুর হাট স্থাপনে তৈরি হতে পারে বাধা। তাই খামারিদের অনলাইনে পশু বিক্রির পরার্মশ দিচ্ছি আমরা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English