ধর্ষণের প্রতিকারে নারীদের শালীন পোশাকে বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া অভিনেতা ও প্রযোজক অনন্ত জলিল নতুন আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
শনিবার প্রকাশিত ভিডিওতে নারীদের উদ্দেশে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ওই বক্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য’ অভিহিত করে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা সমালোচনা করেছেন।
রোববার সন্ধ্যায় আবারও নতুন আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওজুড়ে মূলত ধর্ষকদের তীব্র সমালোচনা করেই তিনি কথা বলেছেন। শুনিয়েছেন নানা উপদেশ।
আগের ভিডিও মুছে ফেলা এবং নতুন ভিডিও আপলোড প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমি আসলে যেটা বলতে চেয়েছি সেটা কেউ কেউ বুঝতে পারেননি। তাই আগের ভিডিওটি কারেকশন করে দিয়েছি। কারও মনে দুঃখ দিতে চাই না আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমেই বলছি, নারীদের আমি খুবই সম্মান এবং শ্রদ্ধা করি। সুতরাং তাদেরকে অপমান বা হেয় করার প্রশ্নই আসে না। আমি বলতে চেয়েছি, প্রকাশ্যে চলাফেরার ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছু কিছু নারীর পোশাক এমন হয় যে, যেটা দেখে অনেক পুরুষই আকৃষ্ট হন। মনে খারাপ চিন্তা জাগ্রত হয়। যেটা পুরুষের মোটেও ভালো দিক নয়। হয়তো সে সময় ওই নারীর কিছু হয় না, কিন্তু তাকে দেখে যেসব পুরুষ খারাপ চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘোরে, তারা অন্য কোনো অসহায় নারী বা শিশুর প্রতি হামলে পড়ে। ধর্ষণ করার সুযোগের সন্ধানে থাকে। এই কারণে প্রকাশ্যে চলাফেরার ক্ষেত্রে শালীন পোশাকের কথা বলেছি। তাছাড়া আমাদের বাঙালি তথা বাংলাদেশী সংস্কৃতিতেও এটা নেই।
অনন্ত জলিল আরও বলেন, ‘আধুনিকতা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আধুনিকতার জন্য যদি অন্য অসহায় কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেটা কিন্তু কাম্য নয়। এটাই বলতে চেয়েছি। তারপরও আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। বিষয়টি কেউ আর ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা না করার জন্য অনুরোধ করছি।’
অনন্ত জলিল আরও বলেন, “করোনাকালের মধ্যেই দেখেছি, অনেকেই বলেছেন, ‘এবার যদি বেঁচে যাই নিজেকে আমুল বদলে ফেলবো’। করোনাভাইরাস কিন্তু এখনও যায়নি। তারা কতটা বদলেছেন সেটা তো দেখতেই পাচ্ছেন সবাই। পোশাকে শালীনতা বজায় রাখার কথা বলাটা তো দোষের কিছু নয়। পোশাকে শালীনতা বজায় রাখা সামাজিকতা, নান্দনিকতার বিষয়। নিশ্চয়ই আমরা কেউ সমাজের বাইরে নই। তারপরও যারা এটাকে দোষ বলে মনে করছেন তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।”
চলচ্চিত্র মিডিয়ার অনেকে আপনাকে বয়কটের কথা লিখেছেন ফেসবুকে-এমন প্রশ্নে অনন্ত জলিল বলেন, ‘যারা বয়কট করার কথা বলছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড বা অতীত কর্মকাণ্ড দেখুন, কতটা সহীহ-শুদ্ধ তারা? তাদের নিয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই। আর কেউ কেউ হুজুগে তাল দিচ্ছে। এসব নিয়ে ভাবছি না আমি।’