নিজেকে খুন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কাজ ছেড়ে হিংসা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। বিরোধিতা করছি। আমাকে খুনের পরিকল্পনা করা হতে পারে। আমার পায়ে চোট দেওয়া হয়েছে। এবার খুন করার প্ল্যান করবেন।’
মমতার এ অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে রাজ্য–রাজনীতিতে। কারণ শনিবারই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের চতুর্থ দফা। তার আগে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন অভিযোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
শুক্রবার বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিজের নির্বাচনী সভা করেন মমতা। সেখান থেকেই অমিত শাহকে স্পষ্টভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘হোম মিনিস্টার দেশের কাজ করছেন না। অথচ কোথায় কীভাবে কার উপর হামলা করা যায়, কীভাবে পুলিশকে দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো যায়, সেসব ষড়যন্ত্র করে বেড়াচ্ছেন। তাই আমি নরেন্দ্র মোদিকে বলব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঙ্গা লাগাচ্ছেন, তাকে কন্ট্রোল করুন। আমি এসব বলছি বলে আমাকে খুনের চক্রান্ত করতে পারেন। কিন্তু আমি কিছুতে ভয় পাই না। যতদিন বাঁচব, বলবই। বাঁচলে বাঘের বাচ্চার মতোই বাঁচব।’
খুনের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘আজকে দাঙ্গাবাজরা বিহার, উত্তর প্রদেশ থেকে গুণ্ডা এনেছে। আর অমিত শাহ কত টাকা আপনার আছে? ভাবছেন চিরদিন এভাবে চলে যাবে! কোটি কোটি টাকা বিলাচ্ছেন! কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা না! টাকা ছড়াচ্ছেন! ভাবছেন সব কিনবেন টাকা দিয়ে! কিনুন। কত কিনবেন! কতদিন কিনবেন! বলি, এত টাকা পান কোথায়? এত এত টাকা! কত কত খরচ করেন এক একটা মিটিংয়ে? হিসেব দেবেন! আমি জানি, আমি এসব বলার পরেই আপনারা আমায় খুন করার চক্রান্ত করবেন। আর কারও কাছে ৫০০ টাকা থাকলে এজেন্সি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আপনাদের এত টাকা এল কোথা থেকে? যদি কেউ প্রতিবাদ না করে ভয়ে চুপচাপ থাকে, তারপরও আমি করবই।’
এ দিন অমিত শাহকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, ‘মাথাভাঙায় আমার তফসিলি প্রার্থীকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্ল্যান করে মারা হয়েছে। অমিত শাহ নোজ এভরিথিং। অমিত শাহ সব জানেন। বসে বসে সব প্ল্যানিং করছেন। হোম মিনিস্টার এখানে বসে বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন। মা–বোনেরা ভয় পাবেন না। লড়াই করবেন। হারবেন না। আপনাদের মত থাকলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবেন। শুনুন, আমাদের দলটা খুব মজাদার একটা দল। আমরা ভাবি, যারা আছে আমাদের দলে, তারা ছাড়াও সবাই আমাদেরই লোক। বিজেপির মতো ছদ্মবেশী সাধু নই।’