কভিড-১৯-এর প্রভাবে সারা বিশ্বের মানুষের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও হুমকিতে পড়েছে। একসময় মানুষ ঘরবন্দি থাকলেও আবার বের হয়ে এসেছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে কর্মহীন এসব মানুষের পাশে এগিয়ে আসেন উদ্যোক্তারা। সরকার ও উদ্যোক্তা সবাই মিলে খুঁজতে থাকে কিভাবে স্তব্ধ বিশ্বে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এমন চিন্তা থেকেই ব্যতিক্রম সব উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের উদ্যোক্তারা। করোনা মহামারির এই সময়ে ব্যতিক্রম সব পণ্য নিয়ে আবার সচল হতে শুরু করেছে দেশের শিল্প-বাণিজ্য। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ গতি ফিরেছে। তাঁদের আশা, আগামী বছরের শুরুতেই আগের অবস্থায় ফিরবে ব্যবসা। তবে এটা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভোগ ব্যয়ের ওপর।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, করোনার সময়ে অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যক্তি সুরক্ষার পণ্য (পিপিই)। এখানে শুধু প্রচলিত ফুল গাউন, সার্জিক্যাল মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারই নয়; উদ্ভাবনী বেশ কিছু পণ্য নিয়ে এসেছে তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্নিজ গার্ড (অ্যাক্রিলিক শিট দিয়ে তৈরি একধরনের সুরক্ষাসামগ্রী, যা দুই পাশে থাকা মানুষকে পরস্পরের ড্রপলেট থেকে রক্ষা করে), উইস্ক কেবিন (নমুনা সংগ্রহের ব্যাগ)। এমনকি জীবাণু প্রতিরোধক রং এবং অন কল পরামর্শ সেবা নিয়ে এসেছেন উদ্যোক্তারা।
দেশের শিল্প খাতের বড় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী বলেন, করোনার এই সময়ে দেশে এবং বিশ্ববাজারে ব্যক্তি সুরক্ষা পণ্যের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রাণ-আরএফএল সার্জিক্যাল মাস্ক, গগলস, ডিস-ইনফেক্ট টানেল, কভিড নমুনা সংগ্রহ বুথ, বডিব্যাগ ও স্নিজ বাজারে নিয়ে এসেছে। উত্তর আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ স্নিজ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিগগিরই বড় ধরনের কাজ পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
আহসান খান চৌধুরী বলেন, করোনাকালে পিপিইর অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও এর চাহিদা তৈরি হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে; সে ক্ষেত্রে দেশে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি পিপিইর প্রচুর সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, ‘একসময় চীনের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও বর্তমান অবস্থা পাল্টেছে। দেশের উদ্যোক্তারা দ্রুত বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটাতে নিজেদের তৈরি করে তুলেছেন। এ জন্য আমাদের গুণগতমান ও সততায় নজর দিতে হবে।’