শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

গান্ধী পরিবারের ওপর আবার চড়াও মোদি সরকার

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন

ভারতের গান্ধী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এবার তদন্ত শুরু নির্দেশ দেওয়া হলো। তদন্ত হবে নানাবিধ আর্থিক অনিয়মের, যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করে সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ। আজ বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন এবং রাজীব গান্ধী চ্যারিটেবল ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগের তদন্তের জন্য একটা অভ্যন্তরীণ মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠিত হয়েছে। তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দেবেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মহাপরিচালক।

কিছুদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের কোপে নতুন করে পড়েছে গান্ধী পরিবার। রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে তারা অনুদান পেয়েছে। তার বিনিময়ে কংগ্রেস এ দেশে চীনা স্বার্থে কাজ করেছে। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়, গান্ধী পরিবার পরিচালিত এই ট্রাস্টগুলো আয়কর আইন, অর্থ পাচার রোধ আইন বা বিদেশি অনুদান আইন ভেঙেছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে।

রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগ আনেন বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা স্বয়ং। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস আমলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ওই সংস্থাকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এই আর্থিক ‌’নয়ছয়ের’ তির সরাসরি গান্ধী পরিবারের সদস্যদের দিকে তাক করে বিজেপি সভাপতি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের চেয়ারপার্সন ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। ফাউন্ডেশনের মাথাতেও তিনি। এটা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, নীতিহীনও। গোটা বিষয়টিতে স্বচ্ছতার কোনো নামগন্ধও ছিল না।

গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিজেপি ১৯৯১ সালের বাজেট ভাষণেরও উল্লেখ করেছে। সে সময় নরসিংহ রাও মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং। তিনি রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনকে পাঁচ বছরে ১০০ কোটি রুপি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিজেপি নিয়মিত তোপ দেগে চলেছে। কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্র নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি নজর দেওয়া হয় ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায়। এর পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের হাত থেকে নিয়ে দেওয়া হয় সিআরপিএফকে। মাত্র কদিন আগে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরাকে বলা হয় সরকারি আবাস ছেড়ে দিতে। এবার গান্ধী পরিবারের তিনটি সংস্থাকেই টেনে আনা হলো আর্থিক অনিয়মের তদন্তের আওতায়।

কংগ্রেস বলছে এই আক্রমণ নীচ ও হীন ‌’রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরযেওয়ালা আজ এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, করোনার মোকাবিলায় চূড়ান্ত ব্যর্থতা ও অর্থনীতি লাটে তুলে দেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের নিয়মিত প্রশ্নে জেরবার সরকার প্রতিহিংসার রাস্তায় নেমেছে। তথ্য বিকৃতি ঘটিয়ে মানুষকে বিপথচালিত করতে চাইছে। তিনি বলেন, মোদি সরকার বরং তদন্ত করুক ‘পিএম কেয়ার্স’ তহবিলে কত শত কোটি টাকা চীনা সংস্থাগুলো দিয়েছে। তদন্ত করুক আরএসএস কোন কোন দেশ থেকে কত কোটি টাকা পেয়েছে। রাজীব গান্ধী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বা ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বিরুদ্ধে যে ধরনের তদন্ত করা হচ্ছে তেমন তদন্ত বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশন ও ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধেও করা হবে কি না তা তিনি জানতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচন বন্ড মারফত বিজেপি যে ৭ হাজার কোটি রুপি পেয়েছে তারও তদন্ত করা হোক। তিনি বলেন, বিজেপির রোজগার তিন বছরে কী করে ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল, সাহস থাকলে তার তদন্ত হোক।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English