রাতে পালাতে গিয়ে পিস্তল, ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ‘নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতন’ করার মামলার অন্যতম আসামি দেলোয়ার হোসেন। সে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান।
রোববার রাত ২টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১১ সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড এলাকায় থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যে ভোর সাড়ে ৫টায় ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীচর ফাড়ির গলি এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ নুর হোসেন বাদলকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ আদমজী নগর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য তুলে ধরেন র্যাব-১১ অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম।
নোয়াখালী স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর ১৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় কয়েক বছর আগে তিনি বাপের বাড়ি চলে আসেন। তার এক ছেলে ও মেয়ে আছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে ওই নারী ছেলে ও এক ভাইয়ের সাথে থাকতেন। গত ২ সেপ্টেম্বর গৃহবধূর সাথে দেখা করতে আসেন তার স্বামী। এ সময় অপরিচিত লোক দাবি করে তাকে বেঁধে রাখে স্থানীয় বখাটেরা।
র্যাব-১১ জানায়, ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর ঘরের ভেতর ঢুকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার একলামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়াডে মধ্যযুগীয় কায়দায় বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নির্যাতনের ঘটনার ৩২ দিন পর নয়জনকে আসামি করে ৪ অক্টোবর রাত ১টার দিকে ধর্যণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ। পাশাপাশি ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আরো একটি মামলা হয়।
র্যাব-১১ অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম জানান, মামলার পর থেকেই র্যাব ব্যাপকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। র্যাব অস্ত্রসহ প্রথমেই রাতে আটক করে সন্ত্রাসী দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেনকে। পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীচর ফাড়ির গলি এলাকা থেকে চাঞ্চল্যকর নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রধান আসামি মোঃ নুর হোসেন বাদলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন আটককৃতরা।
‘দেলোয়ার বাহিনী’ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং নানান সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত এবং দেলোয়ার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।