শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন

চলতি মাসেই ঢাকার সঙ্গে বৈঠক চায় দিল্লি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

জেসিসি বৈঠকের সময় ও আলোচ্য
নিয়ে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) ষষ্ঠ বৈঠক চলতি সেপ্টেম্বরেই করতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। এর জন্য শেখ হাসিনা সরকার প্রস্তুতি নিলেও চলতি মাসেই বৈঠকটি নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এর আগে গত ১৯ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক দ্রুত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের বৈঠকগুলোর ধারাবাহিকতায় আসন্ন বৈঠকেও উঠবে এমন কিছু বিষয় হচ্ছে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, নদীর পানি বণ্টন, পরিবহন ও রেল কানেকটিভিটি, সংস্কৃতি এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক প্রভৃতি। একইসঙ্গে মুজিববর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, জেসিসির পঞ্চম বৈঠকে নানা বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের কাছে ‘আশু সুরাহা’ চেয়েছিলেন। আর ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আশু সমাধানের’ আশ্বাস দিয়েছিলেন। আসন্ন বৈঠকে ‘আশু সুরাহা’ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কী কী ‘আশু সমাধান’ হয়েছে তা জানতে চাইবে ঢাকা। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকার পরপর তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারিতে জেসিসির পঞ্চম বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ভারতের পক্ষে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইছে চলতি মাসেই দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জেসিসির বৈঠকটি সেরে ফেলতে। কিন্তু বৈঠকটি শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের নানা ইস্যু নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু মিলিয়ে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা হবে। আর এই আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। এরফলে দিল্লির চাহিদামতো চলতি সেপ্টেম্বরে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক নাও হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন যাতে দিল্লি সফর করেন সে বিষয়েও তাগাদা দিচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মাসুদ বিন মোমেনের দিল্লি সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জেসিসির বৈঠকটি কবে নাগাদ হতে পারে তার সময় ও আলোচ্য বিষয় নির্ধারণে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তাদের কাজ শেষ হলেই বলা যাবে কবে নাগাদ বৈঠকটি হবে। এরআগে গত ৩১ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমনে বলেছিলেন, আমরা সেপ্টেম্বরে জয়েন্ট কনসালটেটিভে ভার্চুয়াল বৈঠক করার প্রস্তাব করব। এটি হোস্ট করবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মুজিববর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান দেশে ও বিদেশে কীভাবে যৌথভাবে করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এর আগে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে হঠাৎ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ঢাকা সফর করেন। গত ১৯ আগস্ট মাসুদ বিন মোমেন ও শ্রিংলার বৈঠকের পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক দ্রুত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটির একটি ভালো দিক হচ্ছে বিভিন্ন লাইন মন্ত্রণালয়ে যে প্রকল্পগুলো আছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা যাবে। সেই সব প্রকল্প আরো দ্রুত হবে। দুই দেশের সুবিধা অনুযায়ী আমরা এই বৈঠক করব।

এরআগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে জেসিসির পঞ্চম বৈঠকটি হয়েছিল। ওই বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের পঞ্চম বৈঠকে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন বৈঠকেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। তবে আমাদের দেশে প্রধান আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ও রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যার বিচার এবং শরণার্থী সংকট উত্তরণে ভারতের অবস্থান। কিন্তু রোহিঙ্গা বিষয়ে ভারতীয় অবস্থান জানা গেলেও তিস্তা চুক্তি কিংবা শরণার্থী বিষয় নিয়ে দিল্লির কথাবার্তা ঢাকাকে হতাশায় ফেলেছে।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারের সূচনায় বাংলাদেশে প্রথম সফরকালে অবিলম্বে তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদ-নদীর পানির ভাগাভাগির বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন। তার পরের বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমে ঘনিষ্ঠতর হয়েছে। কিন্তু তিস্তার পানি আজ পর্যন্ত ভাগাভাগি হয়নি। অথচ বিষয়টি ভারতের একটি রাজ্য সরকারের ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার’ ওপর ঝুলছে বলে দাবি করা হয়ে থাকে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English