সিলেট থেকে ট্রলারে আসা সেই মেছো বাঘ কুমিল্লা চিড়িয়াখানা থেকেও পালিয়েছে। সূত্রমতে, গত ২৩ জানুয়ারি মেঘনা উপজেলার প্রশাসনের কাছে মেছো বাঘটি হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। বাঘটি বালুবাহী ট্রলারে সবার অজান্তে সিলেট থেকে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আসে। ২৪ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের কাছে বাঘটি হস্তান্তর করেন উপজেলা প্রশাসন। কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় পুরাতন বাঘের খাঁচায় মেছো বাঘটি রাখা হয়। পরদিন ২৫ জানুয়ারি সকালে খাঁচায় বাঘটি দেখা যায়নি।
চিড়িয়াখানার প্রাণীদের পরিচর্যা কর্মী শাহ আলম বলেন, ডিসি স্যার যে দিন বাঘটি দিয়েছেন, আমরা খাঁচায় রেখেছি। মুরগির গোস্ত পিস করে রাতের খাবার দিয়েছি। পানি দিয়েছি। সকালে এসে দেখি বাঘ নাই। খাঁচার ভিতর বাঘ থাকার ছোট ঘর আছে, সে ঘরে গিয়েও দেখি নাই।
কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের ইজারাদার মো. আনিছুর রহমান জানান, যে দিন বাঘ খাঁচায় রাখা হয়েছে, সে রাতেই পালিয়েছে। তবে খাঁচায় তেমন কোনো ফাঁকা নেই। আমাদের ধারণা ওপরের দিকে কিছুটা ফাঁকা আছে। যেহেতু খুবই ছোট হয়তো রড বেয়ে ওপরে উঠে ওই অংশ দিয়ে চলে গেছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, বাঘটি পালিয়ে গেছে না অন্য কোনো সমস্যা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখতে হবে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করব। গাফিলতি পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি বালুবাহী বাল্কহেডে সিলেট থেকে কুমিল্লায় আসে ওই মেছোবাঘ। মেঘনা উপজেলার মেঘনা নদী তীর সংলগ্ন নলচর গ্রামে বাল্কহেডটি নোঙর করার পর বাঘটি সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে। দৌড়াতে শুরু করে গ্রামের কবরস্থানের দিকে। এ সময় গ্রামের লোকজন কৌশলে বাঘটিকে আটক করে।