বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন

চীনা টিকা কিনতে ৬২% অর্থ ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৪ জন নিউজটি পড়েছেন
চীনা টিকা কিনতে ৬২% অর্থ ছাড়

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে টিকা দেওয়ায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বিভিন্ন দেশ থেকে এই টিকা কেনা হবে। শুধু চীনের সিনোফার্ম থেকেই আনা হবে দেড় কোটি ডোজ টিকা। এতে ব্যয় হবে ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ এক হাজার ২৭১ কোটি ৯৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা। দেশে দ্রুত টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিতে তিন ধাপে সব মিলিয়ে ৭৯৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এটি মোট অর্থের ৬২ শতাংশের বেশি। সর্বশেষ গত রবিবার তৃতীয় ধাপে ২৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, সরকার গত ২৭ মে ১৫ কোটি ডলারে সিনোফার্মের দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার অনুমোদন দেয়। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে সরকার চীনের তৈরি টিকার প্রথম চালান কিনতে ২৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করে। এরপর গত মাসে দ্বিতীয় দফায় ২৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এবার গত রবিবার তৃতীয় ধাপে ২৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। ফলে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিনোফার্ম থেকে দ্বিতীয় কিস্তির ‘ভ্যাকসিন’ কিনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুকূলে তিন কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার ছাড় করা হলো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ টাকা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের অর্থ বিভাগের বাজেটে ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় তহবিল’ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিডিও বরাবর অথরাইজেশনের মাধ্যমে অগ্রিম প্রদান ও ব্যয়ের নির্দেশক্রমে সম্মতি দেওয়া হলো। তবে বরাবরের মতো এবারও অর্থ ছাড়ের চিঠিতে কত ডোজ টিকা কেনা হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ দুটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ অনুসরণসহ প্রযোজ্য আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এ অর্থ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট কোডে সমন্বয় করা হবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই টিকা কিনতে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। চীনের সিনোফার্মের টিকা কিনতে ৭৯৪ কোটি টাকাও এ খাত থেকে ব্যয় করা হয়েছে।

দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ বছরই কমপক্ষে ১০ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চায় সরকার। গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান। আর মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সাত দিনে এক কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে যত অর্থ লাগুক না কেন তা খরচ করা হবে। সে জন্য বাজেটে ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় তহবিল’ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। তাই টিকা কিনতে অর্থ কোনো সমস্যা হবে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English