শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন

যশোরের চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ভিনদেশি ড্রাগন ফল। অল্প সময় ও অল্প খরচে অধিক মুনাফা লাভে এখানকার চাষীরা ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

স্থানীয় উদ্যোক্তা উপজেলার তিলকপুর গ্রামে ইসমাইল হোসেন প্রথমে ড্রাগন চাষে বিনিয়োগ করে সফলতা অর্জন করেন। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, তার সফলতা দেখে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, চাকরি ছেড়ে থাই পেয়ারা, আপেল ও বাউ কূলের বাগান করেন তিনি। নতুন কিছু করার চিন্তায় ইন্টারনেটে ড্রাগন চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হন। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারা এনে নিজের দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। বর্তামনে ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ রয়েছে। প্রতিবছর প্রতি একর বাগান থেকে বছরে প্রথম পর্যায়ে ৬/৭ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া চারা বিক্রি করে আরও কয়েক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

কয়েকজন চাষী জানান, প্রতি বছরই এই গাছে ফলের পরিমান বৃদ্ধি পাবে। একটানা বছরের ৭ মাস এই ফল পাওয়া যায়। একবার চারা লাগালে ৩০ থেকে ৪০ বছর একইভাবে ফল হয়। ফলে কাঙ্খিত পরিমানে লাভবান হওয়া সম্ভব।

উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বুন্দলিতলা গ্রামের চাষী সোলাইমান হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাগানের দেড় বছর বয়সে তিনি চারা ও ড্রাগন ফল বিক্রি করে চার লাখেরও বেশি টাকা আয় করেছেন। প্রতি কেজি ড্রাগন গড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকায় বিক্রি করেছেন। ভালো লাভ হওয়ায় তিনি এ বছর আরও এক বিঘা জমিতে নতুন বাগান করেছেন।

তিনি আরও জানান, ড্রাগনের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে পেয়ারা চাষ রয়েছে। পেয়ারা বিক্রি করে ড্রাগন বাগান পরিচর্জার সকল খরচ উঠে আসে। বরং পেয়ারা থেকে কিছু টাকা লাভও থাকে।

সিংহঝুলী গ্রামের প্রবাস ফেরত মিঠু জানান, বাজারেও ড্রাগন ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ড্রাগন একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় তিনি ৯ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। বাগানের বয়স এক বছর হয়েছে। গাছ ফল আসতে শুরু করেছে। তিনি অল্প কিছু ড্রাগনফল প্রতি কেজি সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

চাষীর জানান, ভেষজ জাতীয় এ ফল অত্যান্ত লাভজনক। এই ফল চাষ করার জন্য জৈব সারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত অন্য কোনো সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়না। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলকা থেকে খদ্দেররা বাগানে এসে কিনে নিয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, চৌগাছা এলাকা ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী। উপজেলায় ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। জমি থেকে ড্রাগন ফল সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেছেন চাষীরা। মিষ্টি ও হালকা টক জাতীয় স্বাদের নানা পুষ্টিগুণে ভরা ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করার জন্য আমরা চাষীদের উৎসাহিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English