সময়টা ছিল ১৯৭৯, তখন মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে পড়ছি। এর আগে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ‘আৎ তাখাসসুস ফিল ফিকহ’ বা ইফতা পড়ায় ফিকাহ শাস্ত্রের প্রতি আমার নিজের মধ্যে আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। এ সময় এক বিকালে মদিনা শরিফের হেরাম শরিফের উত্তর-পশ্চিম দিকে ‘মাকতাবাতু তাইয়্যিবা’ নামক লাইব্রেরিতে জীবনের প্রথমবার ‘আল হালালু ওয়াল হারাম ফিল ইসলাম’ বইটি দেখলাম। বইটির শিরোনাম বেশ আকর্ষণীয় মনে হলো। হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম। মূল্য দেখলাম মাত্র ১৫ রিয়াল। অথচ এ ধরনের একটি বই তখন ২৫ রিয়াল বা ৩০ রিয়ালে বিক্রি হয়। বইটি সস্তায় বিক্রি করার কারণ লেখা হয়েছে বইটির অধিক পাঠক প্রিয়তার কারণে অনেক প্রকাশক বইটি অবৈধভাবে ছাপিয়ে বিক্রি করছে; এই চুরি বন্ধ করার জন্যই সস্তায় বিক্রি করা। আমি বইটি কিনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে এলাম। একনাগাড়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে ফেললাম। অভিভূত হলাম। বার বার পড়লাম। মনে হলো এরকম একটি বিষয়ে এ মানের একটি বই কোনো লেখক লিখতে পারেন তা অবিশ্বাস্য। কারণ এ দেশে আমরা শরিয়তের যেকোনো বিষয় জানার জন্য ফিকাহ গ্রন্থ দেখতাম। কুরআনে কী বলা হয়েছে রাসূলের হাদিসে কী আছে তা দেখার প্রয়োজন মনে করতাম না। আর এ বই দেখি সম্পূর্ণ কুরআন হাদিসের দলিলনির্ভর।
তখনই জীবনে প্রথমবারের মতো ওস্তাজ ড. ইউসুফ কারজাভীকে চিনলাম, জানলাম। এর আগে আমার প্রিয় লেখক ছিলেন আশরাফ আলী থানবী, মুফতি মুহাম্মদ শফী, তাকী ওসমানী, মাওলানা মওদুদী। পরে আরো পরিচিত হলাম ভারতের সৈয়দ আবুল হাসান আলী নাদাভী, মিসরের শেখ আব্দুল হালীম মাহমুদ, শায়খ শালতু, শায়খ মুহাম্মদ আল গাজালী, শায়খ আব্দুল্লাহ ওলোয়ান, সিরিয়ার ড. মোস্তাফা আস সাবায়ী, শায়খ রমজান আল বুতী, ইরাকের ড. আব্দুল কারীম জাইদান প্রমুখের লেখার সাথে। আল্লামা ইউসুফ আল কারজাভী ও শায়খ মুহাম্মদ আল গাজালীর লেখা আমাকে এখনও সব চেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। তার আল হালাল ওয়াল হারাম ফিল ইসলাম এ বইটি আমি অনেকবার পড়েছি।
তারই একটি বই পড়তে গিয়ে একবার মনে প্রশ্ন এলো ন্যূনতম কোন কাজগুলো করলে একজন মানুষ জান্নাতে যেতে পারবে? এ ভাবনা থেকেই কুরআন হাদিস স্টাডি করতে গিয়ে দেখলাম চারটি কাজ অবশ্যই করতে হবে। ১. শিরকমুক্ত তাওহীদি জীবন যাপন করতে হবে। ২. ফরজ ইবাদতগুলো আদায় করতে হবে। ৩. কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচতে হবে। ৪. জীবনে হালাল গ্রহণ করতে হবে আর হারাম থেকে বাঁচতে হবে। আর এই ভাবনা থেকে নিজেও লিখে ফেললাম দুটি বই। এক. জান্নাতের সন্ধানে। দুই. ইসলামে হালাল-হারাম। কারণ ড. ইউসুফ কারজাভীর বইয়ে আলোচিত হালাল-হারামের পর মনে হলো এখন আরো অনেক হালাল-হারামের বিষয় সামনে চলে এসেছে। তার সমাধান জানাও আবশ্যক এবং তা সময়ের দাবিও বটে।