সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন

জিদানের ইঞ্জিনে ময়লা এখনো জমেনি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৩ জন নিউজটি পড়েছেন
জিদানের সঙ্গে ঝগড়া, বাদ ব্রাজিল তারকা

একটা ফুটবল ম্যাচে কোন দল জিতবে, তার মূল শক্তিটা মূলত নিহিত থাকে দলের মাঝমাঠে। যার মাঝমাঠ যত ভালো, সে দলের ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা তত বেশি। দলের ইঞ্জিনও বলা হয় এই মাঝমাঠকেই। অথচ কিছুদিন আগে এই ‘ইঞ্জিন’ নিয়েই সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জিনেদিন জিদান।

লুকা মদরিচ, টনি ক্রুস, কাসেমিরো—বহু বছর ধরে রিয়ালের মাঝমাঠের মূল কান্ডারি এই তিনজন। বিশেষত, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম দফায় রিয়ালের কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদান আসার পর থেকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিন কাসেমিরোকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন, সুযোগ দিয়েছিলেন ইস্কোকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিদান বুঝতে পারেন, মিডফিল্ডের রসায়নটা জমাতে ক্রুস ও মদরিচের সঙ্গে কাসেমিরোকে লাগবেই। সেই থেকেই রিয়ালের মাঝমাঠ দায়িত্বের সঙ্গে সামলাচ্ছেন এই তিনজন।

টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ, জিদানের দুই দফায় দুটি লিগসহ অন্যান্য শিরোপার পেছনে এই ত্রয়ীর ভূমিকা অসামান্য। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরুতে এই তিনজনের ফর্ম অতটা ভালো ছিল না, যা চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল জিদানকে।

মদরিচের বয়স এখন ৩৫, ক্রুসের ৩০। কাসেমিরো ক্রুসের চেয়ে দুই বছরের ছোট। বাড়তি বয়সের ক্লান্তি মদরিচদের পারফরম্যান্সে এসে পড়ল কি না, তা নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নগুলোর জবাব কয়েক দিন ধরে কী দুর্দান্তভাবেই না দিচ্ছেন মদরিচরা! বিশেষ করে বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের বিরুদ্ধে অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গত বুধবার মাঝমাঠে তিনজনের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে।

সেদিন মদরিচ যেমন খেলেছেন, তা দেখে কে বলবে তাঁর বয়স ৩৫? ২০১৮ সালে যেমন খেলা দেখিয়ে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছিলেন, মদরিচের ফুটবলে আবারও সেই ছন্দ যেন ফিরেছে।

পাল্লা দিয়ে খেলছেন ক্রুস-কাসেমিরোরাও। চোটে পড়ে ফেদেরিকো ভালভার্দের মতো তরুণ মিডফিল্ডার না থাকায় তাই কোনো সমস্যাই হচ্ছে না জিদানের। পছন্দের ত্রয়ী যে আবারও নিজেদের ফর্ম ফিরে পেয়েছে! মদরিচ-ক্রুসদের ফর্মহীনতার সুযোগ নিয়ে মৌসুমের শুরুতে ভালভার্দে প্রায়ই সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিলেন মূল একাদশে।

চোট কাটিয়ে ভালভার্দে আবার অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে এই ত্রয়ীর কাউকে বিশ্রাম না দিলে তাঁর আবার দলে ঢোকা মুশকিলই! কাসেমিরোর জায়গা নেওয়ার মতো তো রিয়াল দলে কেউ নেই-ই।

বিকল্প কোনো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার না রাখা জিদানের দলের পরিকল্পনা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়। স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া রিয়ালের এই করোনার কালে আর্থিক সমস্যা দেখা না দিলে হয়তো কাসেমিরোর বিকল্প আরেকজন নিয়ে আসতেন জিদান। কিন্তু কাউকে যখন আনা যায়নি, কাসেমিরোর জায়গা নেওয়ার মতোও তেমন কেউ নেই। ভালভার্দে দলে ঢুকলে সেটি হবে তুলনামূলক বয়স্ক দুজন—ক্রুস ও মদরিচের মধ্যে কোনো একজনের বদলি হিসেবে।

লিগের শীর্ষে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে আজ হয়তো আবারও ক্রুস-কাসেমিরো-মদরিচেই ভরসা রাখবেন জিদান। নিজেদের মাঠে অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে রিয়ালের মূল প্রাণশক্তি হবে তাই এই পরীক্ষিত মিডফিল্ডত্রয়ীই। তারা তাঁদের ফিরে পাওয়া ফর্মের ঝলক আজও দেখাতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নেরই ওপরই হয়তো ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই লেখা।

রিয়ালের পরীক্ষাটা অবশ্য কতটা কঠিন, তা এই মৌসুমে আতলেতিকোর ফর্ম আর কিছু সংখ্যাই বলবে। মাদ্রিদে আজ অন্য রকম একটা অনুভূতি নিয়েই নামবে রিয়াল—সম্ভবত এই প্রথম মাদ্রিদ ডার্বির আগে রিয়াল ‘ফেবারিট’ নয়। তার ওপর যেখানে আজ রিয়ালই স্বাগতিক! জিদান নিজেও আতলেতিকোকেই ‘ফেবারিট’ মেনে নিয়েছেন। সেটি অবশ্য চাপটা আতলেতিকোর দিকেই সরিয়ে দেওয়ার কৌশল কি না, তা জিদানই ভালো জানেন।

লিগের পয়েন্ট তালিকায় অন্য যেকারও চেয়ে অন্তত এক ম্যাচ কম খেলে কমপক্ষে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে আতলেতিকো (১০ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট), রিয়াল ১১ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে ৪ নম্বরে। রিয়ালের সর্বশেষ চার ম্যাচে জয় বলতে শুধু সেভিয়ার বিপক্ষে গত শনিবার ১-০ গোলে, আতলেতিকো এখনো মৌসুমে হারেনি। ক্লাব রেকর্ড টানা ২৬ ম্যাচে অপরাজিত সুয়ারেজ-ফেলিক্সরা, জিতেছেন সর্বশেষ ৭ ম্যাচে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English