আল ফারাবি (৮৭০—৯৫০ খ্রি:)
মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আল ফারাবির প্রকৃত নাম আবু নাসের মুহাম্মদ ইবনু ফারাখ আল ফারাবি। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফারাবায়। সেখানে বেশ কয়েক বছর শিক্ষালাভের পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বোখারায় চলে যান। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য তত্কালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাদপীঠ বাগদাদে চলে আসেন। বাগদাদে আল ফারাবি প্রায় ৪০ বছর উচ্চতর শিক্ষা-গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
আল ফারাবি জ্ঞানের আকর্ষণে মিশর, দামেস্কসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশ ভ্রমণ করেন এবং নিজেকে বহুমুখী বিদ্যায় সম্মৃদ্ধ করে তোলেন। পদার্থ বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, চিকিত্সাবিজ্ঞান প্রভৃতিতে আল ফারাবির অবদান অবিস্মরণীয়, এককথায় অনন্য। তবে বিজ্ঞান ও দর্শনে আল ফারাবির অবদান সব চেয়ে বেশি এবং এ জন্যই তিনি সুপ্রসিদ্ধ। পদার্থবিদ্যায় তিনিই ‘শূন্যতা’র অবস্থান প্রমাণ করেন। দর্শনে আল ফারাবি ছিলেন দার্শনিক প্লেটোর সমপর্যয়ের। আল ফারাবির অবদানের জন্য তাকে ‘দ্বিতীয় এরিস্টটল’ এবং ‘আল মুয়াল্লিমুস সানি’ বা দ্বিতীয় শিক্ষক বলা হয়।
আল কিন্দি (৮১৩—৮৭৩ খ্রি:)
বিভিন্ন ভাষা ও বহুবিধ জ্ঞান-প্রজ্ঞায় আল কিন্দি এক অনন্য মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম। তার পুরো নাম আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনু ইসহাক আল কিন্দি। তিনি পবিত্র কোরআন, হাদিস, ফিকহ্, ইতিহাস, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব, গণিত, জ্যেতির্বিদ্যা, রাজনীতির পাশাপাশি আরো অনেক বিষয়ে গভীর ও মৌলিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। ভাষাতাত্ত্বিক ব্যুত্পত্তিসমপন্ন আল কিন্দি ছিলেন আরবি, গ্রিক, হিব্রু, ইরানি, সিরিয় ভাষায় সমান সুদক্ষ ও পণ্ডিত। আল কিন্দি রচিত গ্রন্থাদি বিভিন্ন উচ্চতর গবেষণা কাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত এবং এখনো দারুণ জনপ্রিয়। গবেষকগণের মতে আল কিন্দি ২৬১ বা ২৬৫টি মৌলিক ও মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। আল কিন্দি ‘এরিস্টটলের ধর্মতত্ত্ব’ অনুবাদ করেন। আল কিন্দিকে ‘আরব জাতির দার্শনিক’ বলা হয়।
আল রাযি (৮৬৫—৯২৫ খ্রি:)
ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনু জাকারিয়া আল রাযি। আল রাযি ছিলেন সমসাময়িক ইরানের সুদক্ষ চিকিত্সক ও দার্শনিক। তিনিই সর্বপ্রথম সালফিউরিক অ্যাসিড আবিষ্কার করেন। তিনি ইথানল উত্পাদন, বিশোধন ও চিকিত্সার প্রয়োজনে ইথানলের ব্যবহার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। আল রাযি সুগভীর দর্শনতত্ত্বের অধিকারী ছিলেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অজানা রহস্যভেদের জন্য তিনি দেশভ্রমণ ও মনঃসংযোগের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠার পরিচয় দেন।
এই বিখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ চিকিত্সা, রসায়ন, পদার্থ ও অন্যান্য বিষয়ে ১৮৪ বা প্রায় ২০০টি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। এগুলোর মধ্যে ৬০টি ছিল চিকিত্সাবিষয়ক। তার জলবসন্ত ও হামসংক্রান্ত গ্রন্থের নাম আল জুদারি, আল হাসবাহ ল্যাটিন ও ইংরেজিসহ অনেক ভাষায় অনূদিত হয়। তিনিই সর্বপ্রথম বসন্ত ও হামের পার্থক্য, এগুলোর লক্ষণ ও উপসর্গ যথাযথভাবে বর্ণনা করেন। [ সমাপ্ত ]