পুরো দেশের পর বিনা প্রতিরোধে রাজধানী কাবুল দখল করার প্রতিক্রিয়ায় তালেবানদের প্রতি প্রথম চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সদ্য-প্রাক্তন আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ।
‘দেশের মাটিতেই রয়েছি’, সোমবার (১৬ আগস্ট) ভোরবেলায় নিজের উপস্থিতি জানান দেন সদ্য প্রাক্তন হওয়া আমরুল্লাহ সালেহ। রোববার (১৫ আগস্ট) রাতে আচমকাই চাউর হয়ে যায় যে আশরাফ গণি পালানোর পরেই পালিয়ে গিয়েছেন সালেহ। এদিন তিনি টুইট করে বলেন, ‘আমি নিজের দেশের মাটিতেই রয়েছি। দেশের মানুষের সঙ্গে। এর পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এবং লক্ষ্য রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার হবে। পাকিস্তানি সমর্থন নিয়ে আমাদের দেশে ঢুকে পড়া কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা করে যাব’।
রোববার (১৫ আগস্ট) সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছিল, গণির মতো তিনিও তাজিকিস্তানেই ।
যদিও বিষয়টিতে সরকারি সিলমোহর পড়েনি। আসলে সে সময় কোনও প্রশাসনিক কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তবে ওইদিন বিকেলেই সালেহ বলেছিলেন, ‘কখনও, কোনও অবস্থাতেই তালেবানি জঙ্গিদের কাছে মাথানত করব না’। তিনি আহমদ শাহ মাসুদের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবেন না জানিয়ে বলেন, ‘তালিবানদের সঙ্গে কখনই এক ছাদের নীচে থাকব না’।
ওইদিনই তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যাতে লুঠতরাজ না হয়, সেই জন্য তালেবান মিলিটারি ফোর্স কাবুলে ঢুকেছে। চারদিক থেকে ঘিরে কাবুলকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তালিবানের কাবুলে প্রবেশ করা নিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে আতঙ্কিত হয়ে না পড়েন সেই আবেদনও করেন তিনি।
অন্যদিকে, এই দিন সকালেই তালেবানের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, নারীদের উপর কোনওভাবেই অত্যাচার চালাবে না সংগঠন। তাঁদের বিষয়ে মহিলাদের মধ্যে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে জানায় তারা।
তবে আশরাফ গণি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলেই মনে করছেন সাবেক সরকারপন্থীরা। এ নিয়ে যারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, তারা আমরুল্লাহ সালেহ-এর বক্তব্যে আশার আলো দেখছেন। তবে তালেবান শক্তির অপ্রতিহত দাপটের সামনে আমরুল্লাহ সালেহ-এর চ্যালেঞ্জকে ‘কাগুজে হুঙ্কার’ বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।