মরণঘাতী করোনাভাইরাস মানবদেহের ত্বকের ওপর বেশ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। সম্প্রতি জাপানের কাইয়োটো প্রিফেকচারাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের দাবি, ভাইরাসটি ত্বকের ওপর নয় ঘণ্টা অব্ধি জীবিত থাকতে সক্ষম।
গবেষকরা বলছেন, তারা গবেষণার জন্য মানব ত্বকের নমুনা ব্যবহার করেছেন। করোনাভাইরাসের পাশাপাশি তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসও ত্বকের ওপর রেখে এর স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে দেখেছেন। দেখা যায়, ইনফ্লুয়েঞ্জা ত্বকের ওপর জীবিত ছিল ১ দশমিক ৮২ ঘণ্টা। অন্যদিকে করোনা জীবিত ছিলো ৯ দশমিক ০৪ ঘণ্টা। তবে উভয় ভাইরাসের সংমিশ্রণে তৈরি মিউকাস ত্বকের ওপর প্রায় ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে।
তারা বলছেন, ত্বকের ওপর ইথানল দেয়ার পর করোনা ১৫ সেকেন্ডও জীবিত থাকতে পারেনি। ৮০ শতাংশ ইথানল আছে এমন হ্যান্ড স্যানিটাইজারও একই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।
ভাইরাসটির ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধান করে তারা বলেন, এটি ত্বকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। এর মানে আপনি যদি হাত ঠিকমত পরিষ্কার না রাখেন তাহলে সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ খুব বেশি। বিপদ থেকে বাঁচতে অবশ্যই যথাযথ উপায়ে হাত ও ত্বক পরিষ্কার করতে হবে সবাইকে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার নেয়ার আগে অবশ্যই এতে বিদ্যমান ইথানলের পরিমাণ দেখে নেবেন।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ বলছে, গত মার্চে করোনাভাইরাসের ওপর একটি গবেষণা করা হয়। সেখানে দেখা হয় কোন তলের ওপর ভাইরাসটি কতক্ষণ বা কতদিন অব্ধি জীবিত থাকতে সক্ষম। এতে দেখা যায়, প্ল্যাস্টিক ও স্টিলের পাতের ওপর করোনা ৩ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। এছাড়া তামার পাতের ওপর ৪ ঘণ্টা, কার্ডবোর্ডের ওপর ২৪ ঘণ্টা ভাইরাসটি জীবিত থাকে। সেই গবেষণা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই জাপানী গবেষকরা ত্বকের ওপর ভাইরাসটির জীবন মেয়াদ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন।