বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের একটা শৃঙ্খলা আছে। এই শৃঙ্খলার বাইরে কেউ নন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে কী কী সাংগঠনিক পদক্ষেপ আছে সেটা সুস্পষ্ট করা আছে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ কেউই করতে পারেন না।
মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। সোমবার দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে শোকজ করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।
রিজভী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত একটা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী কখনোই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারে না। আমাদের মধ্যে নানান মত থাকতে পারে, মত পার্থক্য থাকতে পারে। সেটা দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। সেই মত পার্থক্য প্রকাশ্যে আসতে পারে না। সবার সামনে বলতে পারি না। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সম্পর্কে আমরা যদি প্রকাশ্যে বলি, তাহলে সাধারণ নেতাকর্মী কী করবে? জনগণ কি ভাববে? এটা তো কখনই হতে পারে না। ভিন্নমত থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে কেউ নন।’
কী কারণে শোকজ করা হয়েছে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘তাদেরকে কী কারণে শোকজ করা হয়েছে তা চিঠিতে বলা হয়েছে। তারা জবাব দিক। তারপরে দল যেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে।’
সম্প্রতি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশসহ বিচারকরা রাজপথে নামার ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ‘সংবিধানের কথা বলে তারা রাজপথে নেমে এসেছেন। তারা রীতিমতো ব্যানার হাতে মিছিল শ্নোগান দিয়ে রাজনীতিবিদদের মতো সভা-সমাবেশ করেছেন। বিচারক ও পুলিশ বাহিনী মানববন্ধন করেছে যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা দেশের জন্য অশনি সংকেত। রাজপথে সরকার ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন ভূমিকা দেখে জনগণ ভীত-সন্ত্রস্ত, আতংকিত ও ক্ষুব্ধ। নাগরিক সমাজে বিদ্যমান নানা পক্ষের মানুষ বিবাদ মীমাংসার জন্য আদালত ও প্রশাসনেরই শরণাপন্ন হয়। তারাই যদি কোনো এক পক্ষ নিয়ে রাস্তায় নামে তাহলে অন্য পক্ষের কথা শুনবে কে? তাহলে ন্যায় বিচার বলে তো কিছু থাকবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।