পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে তিন জাতের মুগডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপকুল ছাড়াও অর্ধ শতাধিক চরাঞ্চলে প্রান্তিক কৃষকেরা মুগডালের ব্যাপক চাষ করেছে। ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসির পাশাপাশি নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং চরাঞ্চলের আবাদি ও অনাবাদি জমিতে কৃষকরা বাড়তি লাভের আশায় ব্যাপকভাবে মুগডালের চাষ করেছে। ফলে উপজেলায় মুগডালের চাষাবাদে সবুজ বিপ্লবের আশা করছেন আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে। উপজেলার মাটি নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত থাকায় রবি ফসল চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মুগডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার চতুরদিক দিয়ে অসংখ্য খাল ও নদী বয়ে গেছে। এই অঞ্চলে নদী বিধৌত পলিমাটি জমিকে উর্বর করছে। ফলে এ অঞ্চলে রবি শস্যসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভাল হয়। মাঠের পর মাঠ ছেয়ে গেছে মুগডালের আবাদ। ফসলের বাম্পার ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাবার আশায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ানে ৭৮২৮হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের মুগডাল চাষ হয়েছে। তার মধ্যে বারি মুগ-৫, বিনা মুগ-৮ ও বারি মুগ-৬ বেশি চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বেশি চাছ হয়েছে।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ানের দক্ষিন দাস পাড়া গ্রামের কৃষক সংকর চন্দ্র জানান, লোকসান কমাতে ও অধিক লাভের আশায় চলতি মৌসুমে ১একর জমিতে মুগডাল চাষ করেছি। একই গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন হাওলাদার জানান, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মুগডালের ফলন ভাল হয়েছে। বহরমপুর ইউনিয়ানের বগুড়া গ্রামের ইউনিচুন ও নসা মিয়া তালুকদার জানান, এই ডাল আবাদ করার পর একটু পরিচর্যা করলেই ভাল ফলন পাওয়া যায়। আর মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। চাষের জমিতে শেষ সময়ে মুগডালের ফলন ভাল দেখে নতুন করে বাচার স্বপ্ন দেখছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর আহাম্মেদ বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মুগডালের ফলন ভাল হয়েছে। আর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আর এ ফসল কম সময়ে চাষি ঘরে তোলতে পারে।