ঢাকা মহানগর উত্তর আ.লীগের বর্ধিত সভা
বিতর্কিতদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান
‘দুর্বল’ সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় * সম্মেলন সামনে রেখে শিগগির থানাভিত্তিক টিম গঠন করা হবে
ঢাকা দক্ষিণের পর বিশেষ বর্ধিত সভা করল ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। সভায় ইউনিট থেকে শুরু করে থানা-ওয়ার্ড পর্যন্ত সংগঠন গোছানোর কাজ শুরুর বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসাবে আগামী ১০ তারিখের মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে থানাভিত্তিক সম্মেলন আয়োজন ও প্রস্তুতির জন্য টিম করা হবে। এর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ শুরু করবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। তিন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করে সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা হবে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে ও দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সোমবার বেলা ৩টা থেকে রাত সোয়া ১০ পর্যন্ত রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা এই বিশেষ সভায় ঢাকা উত্তরের থানা-ওয়ার্ডের অন্তত ৪৭ জন নেতা বক্তব্য দেন।
তাদের প্রায় সবাই ‘দুর্বল’ সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হিসাবে গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন। নগর আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, ঢাকায় সাংগঠনিকভাবে আমাদের অবস্থা আগের চেয়ে ‘দুর্বল’। অনেক জায়গায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই।
অনেক জায়গায় দীর্ঘদিন সম্মেলন হয় না। এগুলো সব ঢেলে সাজাতে হবে। ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তিদের সংগঠনে জায়গা দিতে হবে। অনুপ্রবেশকারী, সুযোগসন্ধানী বা সন্ত্রাসী-দখলবাজরা যেন কমিটিতে আসতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান মঙ্গলবার বলেন, ‘শিগগির আমরা কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করে থানাভিত্তিক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করে দেব। তারা থানা ও ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ইউনিট পর্যায় থেকে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করবেন।’
সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি বলেন, ‘আমরা একেবারে তৃণমূল থেকে সম্মেলন শুরু করব। সেখানে কোনোভাবেই বিতর্কিতদের জায়গা দেওয়া হবে না। স্বাধীনতাবিরোধী কেউ যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকব।
এ ছাড়া বিতর্কিত লোক আমাদের দলের হলেও তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আমরা সংগঠনে জায়গা দেব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দল ও সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন কাউকে কোনোভাবেই সংগঠনের কোনো পর্যায়ে জায়গা দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে।’
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পর এ ধরনের আয়োজনে উৎফুল্ল ছিল নগর আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ডের নেতারা। দলীয় ফোরামে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে নিজেদের কথা বলতে পেরে খুশিও তারা। তবে বেশ কয়েকজন সংগঠনের দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা ও সুবিধাবাদীদের জায়গা দখলের প্রসঙ্গে তুলে ধরে ক্ষোভও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সংগঠনকে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সুসংগঠিত করে গড়ে তোলার প্রত্যাশার ব্যক্ত করেন।’
জানতে চাইলে ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি মো. ইসহাক মিয়া বলেন, ‘নগর আওয়ামী লীগ থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা সেগুলো মেনে কাজ করব।’
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্রের ৩৫(১) ধারা অনুযায়ী মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সব ইউনিটের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরবর্তী তিন মাস পর ওয়ার্ড সম্মেলন ও থানা সম্মেলন করতে হবে।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সংগঠনকে ইউনিট থেকে ওয়ার্ড, থানা মহানগর প্রতিটি পর্যায়ে সুশৃঙ্খল এবং সুসংগঠিত করতে হবে।
ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বর্ধিত সভার টার্গেট, আমাদের ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। দীর্ঘ ১৭-১৮ বা ১৬-১৫ বছর ধরে আমরা ইউনিট কমিটির সম্মেলন করতে পারিনি। ম্যাক্সিমাম জায়গায় উত্তর-দক্ষিণে প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিসর্বস্ব একটা কমিটি আছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে সম্মেলন করে নেতা নির্বাচন করার কথা, সেই পদ্ধতি থেকে কিন্তু আমরা সরে এসেছি! আমরা সিভি নিই, সিভি নিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করি। কিন্তু আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য, আমাদের গঠনতন্ত্র এভাবে কমিটি করার প্রক্রিয়া অ্যালাউ করে না।