ঢাকার মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সাব্বির হোসেন। চাকরির পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তার বিনিয়োগ ছিল। সেখান থেকে প্রতি মাসেই কিছু আয় হতো। এতে ভালোভাবেই চলে যেত তার সংসার। কিন্তু শেয়ারবাজারে দীর্ঘ দৈন্যদশায় অধিকাংশ টাকা খোয়া যায় তার। এদিকে, করোনার উপদ্রব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরিটাও চলে যায়। এমতাবস্থায় চোখে অন্ধকার দেখছিলেন তিনি। কিন্তু তার চোখে এখন নতুন আশার আলো। কারণ, করোনার মধ্যেও শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাজার আরও ভালো হবে বলে বিশ্নেষকরাও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। কারণ, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সাব্বির হোসেন জানান, ২০১০ সালে ২০ লাখ টাকার বিনিয়োগ দিয়ে শেয়ারবাজারে তার যাত্রা শুরু। প্রথমে বেশ লাভ হলেও বছরের শেষে বাজারে ধস নামে। কপাল পোড়ে তার। ধসের আগে তার শেয়ারের মূল্য ছিল প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ধসে সব শেষ হয়ে যায় তার। স্ত্রীর গহনা বিক্রি ও ধার করে আরও ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু আসল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গত জুনে তার শেয়ারের মূল্য নেমে আসে ১৬ লাখে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরে ছিলেন। গত জুনের শেষ দিক থেকে বাজার কমবেশি বাড়তে থাকে। তার শেয়ারের দামও বাড়তে থাকে। এখন তিনি আশায় বুক বাঁধছেন। শুধু সাব্বির হোসেন নন, এ রকম হাজারো বিনিয়োগকারী আবার শেয়ারবাজারমুখী হচ্ছেন।
নতুন আশার আলো দেখছেন শেয়ারবাজারে।
শুধু বিনিয়োগকারী নন, বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর গভীর শঙ্কা নিয়ে দিন গুনছিলেন। অনেকের চাকরি চলেও গেছে। শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোয় স্বস্তি ফিরেছে তাদের মধ্যে। এখন তারাও ছাঁটাই চিন্তা থেকে সরে আসছেন।
ধসে পড়া বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্বই এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে, যার পুরোধায় আছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, বিএসইসির কাজ শেয়ারবাজারে পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা পান। তারা বিশ্বাস করতে চান, কেউ কারসাজি করে টাকা মেরে দিতে পারবে না। নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই মাসে কিছু উদ্যোগের পাশাপাশি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা খুশি হয়েছেন। ফলে তারা নতুন করে বিনিয়োগ করেছেন। এতে শেয়ারদর বাড়ছে, বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। স্থবির শেয়ারবাজার নতুন করে জেগে উঠছে।
গত ২১ জুন ঢাকার শেয়ারবাজারে মাত্র ৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। যদিও শেয়ারের দরপতন ঠেকাতে গত ১৮ মার্চ আরোপ করা হয় ফ্লোর প্রাইস (প্রতিটি শেয়ারের বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন দর)। কিন্তু সর্বনিম্ন দরেও শেয়ার কিনতে ভরসা পাচ্ছিলেন না কেউ। কারণ ফ্লোর প্রাইস যখন তুলে দেওয়া হবে, তখন পুনরায় দরপতন শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কায়।
কিন্তু দেড় মাস পর গত বৃহস্পতিবার সেই ডিএসইতে এক দিনে কেনাবেচা হয়েছে ৮৩৬ কোটি টাকার শেয়ার, যা গত ২১ জুনের তুলনায় প্রায় ২২ গুণ বেশি। ফ্লোর প্রাইসের বেশি দরে কেনাবেচা হয়েছে ৩১০ শেয়ার। ফ্লোর প্রাইসের কারণে এত দিন যারা শেয়ারে বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছিলেন না, তারাও ফিরছেন বিনিয়োগে।
মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের বাজারমুখী করতে নানামুখী উদ্যোগ নেন। তিনি দায়িত্বশীলদের বোঝাতে সক্ষম হন, অর্থনীতিকে বেগবান করতে শেয়ারবাজারের বিকল্প নেই।
এমন আলোচনার মধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে থাকা শেয়ারবাজারকে পুনরায় চালু করেন নতুন চেয়ারম্যান। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে বিশ্বের সব শেয়ারবাজার চালু থাকলেও বন্ধ ছিল শুধু বাংলাদেশে। দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ৩১ মে চালু হয় বাজার। চালুর পর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারী টানতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। সহযোগিতা চাওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও।
অবশ্য বিনিয়োগে ফিরতে বড় বিনিয়োগকারীরা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার দাবি জানান। তাতে কর্ণপাত করেননি বিএসইসির চেয়ারম্যান। অনিয়ম দূর করে মানুষের আস্থা ফেরানোকেই বেশি শুরুত্ব দেন তিনি। শিবলী রুবাইয়াত বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতির কারণে শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কমিশন এমন কিছু কাজ করছে যাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে শেয়ারদর এমন পর্যায়ে যাবে, যেখানে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে কোনো চিন্তাই থাকবে না।’ তিন মাস নয়, দুই মাস না পেরোতেই তার কথার প্রতিফলন মিলল শেয়ারবাজারে।
শেয়ারের চাহিদা বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে নূ্যনতম ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে আলটিমেটাম দেয়। তাতে কাজ হয়। বেশকিছু কোম্পানির পরিচালক পদে থাকতে শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই সব শেয়ারের দর বাড়তে থাকে। বাজারে লেনদেনের সময়ও বাড়ানো হয়।
এরই মধ্যে একটি ব্রোকারেজ হাউসের মালিক তার গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সটকে পড়লে বিএসইসির চেয়ারম্যান তাকে গ্রেপ্তার করার উদ্যোগ নেন। গ্রাহকদের শেয়ার ও টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।
নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরই ঘোষণা দিয়েছিল, তারা মন্দ মানের আর কোনো কোম্পানিকে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলতে অনুমতি দেবে না এবং ভালো ভালো কোম্পানিকে দ্রুততার সঙ্গে আইপিও অনুমোদন দেবে। এর প্রমাণও তারা রেখেছেন। গত এক মাসেই মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত মুনাফা ও সম্পদের তথ্য দেওয়ায় অন্তত ছয় কোম্পানির আইপিও আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কোনো তদবিরে কাজ হয়নি। কিন্তু এ বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না।
আর্থিক প্রতিবেদনে জালিয়াতি করা কোম্পানির আইপিও বাতিলের ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে। এদিকে, ভালো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওয়ালটন ও এনার্জি প্যাকের বিষয়ে কমিশন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবিকে শেয়ারবাজারে আনতে কোম্পানিটির শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে কমিশন। কমিশনের এসব কর্মকাণ্ড বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তুলেছে।
আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান কমিশন। আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যাকাউন্টসহ সব পরিচালকের শেয়ার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। সিএনএটেক্স এবং তুংহাই নিটিংয়ের সাবেক এমডিসহ তিন পরিচালককে বিনা ঘোষণায় ১২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করায় ১৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। তথ্য গোপন করে আইপিওতে আসায় বিবিএস কেবলসের সব পরিচালক, ইস্যু ম্যানেজার ও নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। কমিশনের এসব সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে, ভবিষ্যতে এমন সব অনিয়ম হলে কঠোর থাকবে বিএসইসি। এতে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারী।
আবার কার্যকর বন্ড বাজার গড়তে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতের কমিশন। শেয়ারে বিনিয়োগ অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকে চান, ব্যাংকের সঞ্চয়ের মতো কম ঝুঁকির বিনিয়োগ। বিভিন্ন কোম্পানিও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারে বন্ড ইস্যু করে। এত দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার নিশ্চিতের শর্ত পরিপালনের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেসব বন্ড ইস্যু করত, তার ক্রেতা ছিল মূলত অন্য ব্যাংক বা বীমা কোম্পানি। এবার কমিশন তাদের পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে এ ধরনের বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। গত মাসে দি সিটি, ওয়ান, যমুনা এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। এসব বন্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। এর বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকও বড় অঙ্কের বন্ড ইস্যুর জন্য আবেদন করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের আবেদন করেছে। আশা করা হচ্ছে, সরকারের বড় প্রকল্পের অর্থও বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে। শরিয়াহ অনুযায়ী বিনিয়োগ করার সুযোগ করতে শিগগিরই সুকুক বন্ড চালুর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকারি বিল ও বন্ড যেন শেয়ারবাজারে কেনাবেচা হয়, তারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে এসব ইতিবাচক পরিবর্তন সম্পর্কে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, নতুন কমিশন যে কাজ করছে, তাতে মানুষের আস্থা কিছুটা ফিরছে। এটা ধরে রাখতে হবে। বাজারে যদি আগের মতো কারসাজি ফিরে আসে এবং তার বিচার না হলে মানুষ আবারও আস্থা হারাবে। কমিশনের এখন করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমত শেয়ারবাজারে যাতে একটিও মন্দ মানের আইপিও না আসে। এ ধরনের আইপিও আনতে যারা কাজ করে, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি ভালো শেয়ার আনতে হবে। বিনিয়োগ পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। সরকারি ২৬টি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ে কেউ বাস্তবায়ন করেনি। এটা করতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও কার্যকর বন্ড বাজার করতে হবে। সর্বোপরি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। দেশের বিশিষ্টজনকে নিয়ে অ্যাডভাইজরি কমিটি করার প্রস্তাব দেন তিনি। মাঝেমধ্যে তাদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাহলে কমিশন বুঝতে পারবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কী করা উচিত। এটা করলে মানুষ আরও আস্থা পাবে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নতুন চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত গত দুই মাসে নানা পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে অসংখ্য ভার্চুয়াল সেমিনারে কথা বলেছেন। এমনকি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসেও কথা বলেছেন, যা ইতোপূর্বে বিশ্বের অন্য কোনো শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। এটাকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে শিবলী রুবাইয়াত বলেন, সমস্যার পাহাড়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা, এ বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব। কী করে আস্থা ফেরানো যায় এবং সমস্যাগুলো কী তা জানতে ও বুঝতে সবার সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। যেই কথা বলতে চেয়েছে, তার সঙ্গেই কথা বলেছি। এর মাধ্যমে কমিশন যে সত্যি সত্যি কিছু পরিবর্তন আনতে চাচ্ছে, তা বোঝানোর সুযোগ পেয়েছি। ভার্চুয়াল সভাগুলো ভালো কাজ দিয়েছে। আমাদের কথাগুলো সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর কাছে পৌঁছেছে। এটা দেখে ভালো লাগছে, অনেকে আমাদের কথায় আস্থা রাখছেন এবং বিনিয়োগে ফিরছেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা গত দুই মাসে যতটুকু অর্জন করেছি, তা ধরে রেখে আরও বাড়াতে চাই। এ বাজারকে প্রকৃতই পুঁজিবাজার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
বিএসইসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, এখন থেকে এ বাজারে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না। প্রয়োজনে খারাপ লোকগুলোকে বাজার থেকে বের করে দেওয়া হবে। এটা কথায় নয়, কাজ দিয়ে প্রমাণ করব। শেয়ারবাজারকে পুরোপুরি অটোমেশন করব। কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে তা দৃশ্যমান হবে। অটোমেশন হলে সবার কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সহজে পাবেন। শেয়ারবাজার সবার জন্য সহজ হবে। দেশের অর্থনীতি যেভাবে বড় হচ্ছে, অচিরেই শেয়ারবাজার তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।