বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

নতুন নতুন ইয়াবা-কারবারিদের আধিপত্য

ক্রাইম ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১
  • ১৭৪ জন নিউজটি পড়েছেন
নতুন নতুন ইয়াবা-কারবারিদের আধিপত্য

টেকনাফের আলোচিত নাম ‘আব্দুল কাদির’ ওরফে ‘মগ কাদির’। ২০০৩ সালের দিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে থেকে কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে ‘মগ কাদির’ এখন বাংলাদেশের নাগরিক। সরেজমিন টেকনাফ পরিদর্শনে নামটি বেশ কয়েকবার শোনা গিয়েছে। মগ কাদির ইয়াবা-কারবারের সঙ্গেও জড়িত। তার অনেক আত্মীয় মিয়ানমারে থাকেন। এ সুযোগে তিনি ইয়াবার রমরমা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। টেকনাফ বন্দরের একজন শ্রমিক হয়েও বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার ও টেকনাফে তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় জেলও খেটেছেন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও ইয়াবা-কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৩ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন মগ কাদির। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি খাস জমির ওপর একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে থাকতেন। ২০১৩-১৪ সালের দিকে কাজ নেন টেকনাফ স্থলবন্দরে। বন্দরে বিজিবি’র জন্য আসা মালামাল জাহাজ থেকে মাথায় তুলে গুদামে রাখতেন। গুদাম থেকে সেগুলো আবার তুলে দিতেন গাড়িতে। কয়েক বছর পর সেই মগ কাদির শ্রমিকদের মাঝি (শ্রমিক নেতা) হয়ে যান। পরবর্তীতে বিজিবি’র গুদাম বন্ধ হয়ে গেলে তিনি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তাকে টাকা দিয়েছেন— এমন দুই ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথাও জানা গেছে।

এদিকে, কক্সবাজার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মগ কাদির ইয়াবা-কারবারের সঙ্গেও জড়িত। তার অনেক আত্মীয় মিয়ানমারে থাকেন। এ সুযোগে তিনি ইয়াবার রমরমা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। টেকনাফ বন্দরের একজন শ্রমিক হয়েও বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার ও টেকনাফে তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় জেলও খেটেছেন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও ইয়াবা-কারবারে জড়িয়ে পড়েন। আরও জানা যায়, ২০০৩ সালে বাংলাদেশে এসেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন মগ কাদির। তবে টেকনাফের রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করা হয় তার এনআইডি। কয়েক বছর আগে আবারও তিনি এনআইডি সংগ্রহ করেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, টেকনাফের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মগ কাদিরকে বেশ প্রশ্রয় দেন। কারণ, তিনি মগ ভাষায় (আরাকানি ও বাংলার মিশ্রিত ভাষা) বেশ পারদর্শী। মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে হলে এ ভাষা জানা প্রয়োজন। মিয়ানমারের যেসব ব্যবসায়ী টেকনাফ বন্দরে পণ্য নিয়ে আসতেন তাদের সঙ্গে কথা বলতে দোভাষী হিসেবে স্থানীয়রা তাকে কাজে লাগাতেন। এছাড়া নিজের ইয়াবা চালানের পাশাপাশি অন্যদের চালান আনতেও সহযোগিতা করেন মগ কাদির।

বর্তমানে তাকে (মগ কাদির) আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদীর ভাই মৌলভী মুজিবুর রহমান। ২০১৮ সালে মাদক-কারবারিদের যে তালিকা প্রকাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সেখানে মুজিবুর রহমানের নামও রয়েছে। মগ কাদির তার ব্যবসায়িক পার্টনার। ইয়াবা-কারবারের টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন— অভিযোগ স্থানীয়দের টেকনাফের স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদীর ভাই মৌলভী মুজিবুর রহমান। ২০১৮ সালে মাদক-কারবারিদের যে তালিকা প্রকাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সেখানে মুজিবুর রহমানের নামও রয়েছে। মগ কাদির তার ব্যবসায়িক পার্টনার। ইয়াবা-কারবারের টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন— অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে জানতে গত কয়েকদিনে মগ কাদিরের ব্যক্তিগত নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে একই নম্বরে কল দিলে ‘আনরিচেবল’ বলা হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English