জাকাত, সাদকা, ফিতরা ইত্যাদি হলো মানুষের ময়লা। এ ময়লা থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই ভালো। তাই মহানবী সা: ও তাঁর বংশের জন্য জাকাত, ফিতরা, সাদকা ভক্ষণ করা হারাম। রাসূলুল্লাহ সা: স্বীয় উম্মতের জন্যও ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করেছেন। হ্যাঁ, অভাবী, ঋণগ্রস্ত প্রমুখের জন্য অন্যের কাছে চাওয়া বৈধ।
মহানবী সা: বলেছেন, ‘নিকৃষ্ট বৈধ কাজ হলোÑ দু’টি Ñ ১. স্ত্রীকে তালাক দেয়া ও ২. ভিক্ষা করা। হজরত হাকিম ইবনে হাজম বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা:-এর কাছে কিছু চাইলাম; অতঃপর তিনি আমাকে দিলেন, তারপর আবার চাইলাম, তিনি এবারো দিলেন। অতঃপর বলেন, ‘হে হাকিম! এ মাল সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা চাওয়া ও লোভ ছাড়া অর্জিত হয়, তাতে বরকত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি লোভ করে তা চায়, তাতে বরকত দেয়া হয় না। সে যেন এমন সে খাওয়ার পরও তৃপ্ত হয় না। আর দাতার হাত গ্রহীতার হাতের চেয়ে উত্তম।’ হাকিম বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ওই জাতের শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেনÑ আমি মৃত্যু পর্যন্ত কারো কোনো কিছু চাইব না। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত হাদিস নং- ১৮৪২)
রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, প্রয়োজনীয় মাল থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি অন্যের কাছে চায় সে বিচার দিবসে এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার চেহারায় নখের আঁচড় থাকবে। জনৈক সাহাবি আরজ করেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ কী পরিমাণ? রাসূলুল্লাহ সা: উত্তরে বলেন, ‘৫০ দিরহাম অথবা সমমূল্যের স্বর্ণ’। (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মিশকাত হাদিস নং-১৮৪৭)
হজরত আনাস রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ একজন আনসার সাহাবি মহানবী সা:-এর কাছে এসে কিছু চাইলেন। রাসূল সা: তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কি কিছুই নেই’। সাহাবি বললেন, হ্যাঁ একটি বড় চাদর আছে, যার এক অংশ আমি পরিধান করি, আরেক অংশ বিছিয়ে নিদ্রা যাই। আর পান করার একটি পাত্র আছে। রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘উভয়টি নিয়ে আসো। অতঃপর সাহাবি উভয়টি নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ সা: উভয়টি হাতে নিয়ে বললেন, ‘এ দুটি জিনিস কে ক্রয় করবে’। একজন সাহাবি বললেন, আমি এক দিরহাম দিয়ে ক্রয় করব। রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘এক দিরহামের বেশি দিয়ে কে ক্রয় করবে?’ এ কথা তিনি দু’বার অথবা তিনবার বললেন। তখন অপর এক সাহাবি বললেন, আমি উভয়টি দুই দিরহামে ক্রয় করব। অতঃপর বস্তুদ্বয়ের মালিককে দিরহাম দুটি দিয়ে বললেনÑ ‘যাও, এক দিরহাম দিয়ে পরিবারের জন্য খাদ্য কিনবে, আর অপর দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার কাছে নিয়ে আসবে।’ অতঃপর সে কুঠার নিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ সা: নিজ হাতে তার হাতল লাগান। অতঃপর বললেন, ‘জঙ্গলে গিয়ে কাঠ কাটবে এবং বাজারে গিয়ে বিক্রি করবে। ১৫ দিন আমি যেন তোমাকে না দেখি। অর্থাৎ ১৫ দিন আমার কাছে আসবে না।
অতঃপর সে চলে গেল এবং কাঠ কেটে বিক্রি করতে লাগল। ১৫ দিনে তার কাছে ১০ দিরহাম জমা হলো। সে কিছু দিরহাম দিয়ে জামা এবং কিছু দিরহাম দিয়ে খাদ্য ক্রয় করল। কিছু দিনের মধ্যে তার অভাব দূরীভূত হয়ে গেল। মহানবী সা: অন্যের কাছে না চেয়ে কর্ম করে খাওয়া যে উত্তম তাকে বুঝিয়ে দিলেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
নবী-রাসূলগণ নিজ হস্তে কাজ করে খেতেন। তাদের সবারই কোনো না কোনো পেশা ছিল। হজরত আদম আ: ও হজরত নূহ আ: ছিলেন কৃষক। হজরত ইদরিস আ: ছিলেন দর্জি। হজরত হুদ আ: ছিলেন ব্যবসায়ী ও রাখাল। হজরত ইবরাহিম আ:-এর পেশা ছিল পশুপালন ও দুধ বিক্রি করা। হজরত মূসা আ: ছিলেন রাখাল। হজরত ইউনূস আ:-এর পেশা ছিল কৃষিকাজ করা। হজরত জাকারিয়া আ: ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আমাদের প্রিয় নবী সা:-এর পেশা ছিল ব্যবসা। কোনো নবী-রাসূল অন্যের কাছে কোনো কিছু চাইতেন না। সুতরাং মহানবী সা:-এর শিক্ষা হলোÑ ভিক্ষা করো না; মেহনত করো।