নারায়ণগঞ্জে ‘নিহত’ স্কুলছাত্রী জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় হাইকোর্টের দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি আবারো পিছিয়েছে। হাইকোর্ট আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের আবেদনে এ দিন নির্ধারণ করে বুধবার আদেশ দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
বুধবার এ রিট আবেদনের ওপর শুনানির ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী অধিকতর শুনানির জন্য ছয় সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেন। এরপর আদালত আদেশ দেন। এসময় রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী।
‘নিহত’ স্কুলছাত্রী জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় গতবছর ২৪ সেপ্টেম্বর এক আদেশে বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এ আদেশে তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ড) থাকার সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক(এসআই) মো. শামীম আল-মামুনের বিরুদ্ধে আসামীদের মারধর, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য করার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।’ এই প্রতিবেদন পাবার পর গত ১৩ জানুয়ারি এক আদেশে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মূলতবি করা হয়। গতকাল নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আবার শুনানি পেছালো।
গতবছর ৪ জুলাই ৫ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ স্কুল ছাত্রীর পিতা গতবছর ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব এবং খলিল নামে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। স্বীকারোক্তিতে তারা বলে যে, ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গতবছর ২৩ আগস্ট ওই ছাত্রীকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থী বলছে, সে ইকবাল নামক একজনকে বিয়ে করে তার সঙ্গে সংসার করছে। এনিয়ে ‘ধর্ষণের পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়া স্কুল ছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে গতবছর ২৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে গতবছর ২৫ আগস্ট ৫ আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন, মো.জোবায়েদুর রহমান, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আল রেজা আমির এবং মো. মিসবাহ উদ্দিন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।