শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

পদ্মার পেটে গেল চরের সেই বাতিঘর

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০
  • ৩৩ জন নিউজটি পড়েছেন

চরাঞ্চল বন্দরখোলা। আধুনিকতার ছোয়া লেগেছিল ওই চরের মানুষের মাঝে। এই চরে বিদ্যুত, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগের পাকা সড়ক সব কিছুই ছিল। মাত্র কয়েক বছরেই ওই চরে গড়ে উঠে সব ধরনের সুবিধা। কিন্তু পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে এলাকার মানুষের সকল সুবিধা কেড়ে নিলো। মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাতিঘরখ্যাত সেই স্কুলটি অবশেষে বিলীনের পথে পদ্মার ভাঙনে।

বুধবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতে বিদ্যালয়টির মাঝ বরাবর দ্বিখন্ডিত হয়ে হেলে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যালয়টি নদীর দিকে আরো হেলে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরাঞ্চলে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছে চরাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। এছাড়াও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে দূর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষেরা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের নূরুদ্দিন মাতবরেরকান্দি গ্রামে অবস্থিত এস ই এস ডি পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ তলা ভবনটি হেলে পড়েছে পদ্মায়।

২০০৯ সালে স্থাপিত হয় নূরুদ্দিন মাদবরের কান্দি এস.ই.এস.ডি.পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি। বন্দরখোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে স্থাপিত এই বিদ্যালয়টির কারণে শিবচর উপজেলার বন্দোরখোলা ইউনিয়নের মমিন উদ্দিন হাওলাদারকান্দি. জব্বার আলী মুন্সীকান্দি, বজলু মোড়লের কান্দি, মিয়া আজম বেপারীর কান্দি, রহমত হাজীর কান্দি, জয়েন উদ্দিন শেখ কান্দি, মসত খাঁর কান্দিসহ প্রায় ২৪ টি গ্রাম ও ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার চর নাসিরপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। বিদ্যালয়টি ছিল চরাঞ্চলের একমাত্র দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ভবনসহ আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ একটি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রায় চার শত ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করতো।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চরের এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের সকলেই চরের বাসিন্দা। মূল ভূ-খন্ড এখান থেকে বেশ দূরে হওয়ায় চরের ছেলে-মেয়েরা অন্যত্র গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পেতো না। এই বিদ্যালয়টি হওয়ার কারণে এখন চরের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতো। চরের ছোট ছোট প্রায় ২৪ টি গ্রাম থেকে চারশতাধিক শিক্ষার্থী ছিল বিদ্যালয়টিতে।

স্থানীয়রা জানায়, পদ্মার নিকটবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই বন্যার পানিতে ডুবে যেতো বিদ্যালয়সহ আশেপাশের এলাকা। গত বছর পদ্মানদী ভাঙতে ভাঙতে পেছন দিক দিয়ে বিদ্যালয়টির নিকটে চলে আসে। এরপর গত বছরই জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে ওই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকিয়ে রাখে। চলতি বর্ষা মৌসুমেও ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলতে থাকে ওই এলাকায়। তবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচন্ড স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ ফেলে তেমন সুবিধা করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বুধবার রাতে তিন তলা ভবনের বিদ্যালয়টির কিছু অংশ হেলে পরে।

সপ্তম শ্রেনির ছাত্র ফয়সাল জানায়, বিদ্যালয়টি নদীতে নিয়ে গেলে এলাকায় হয়ত শিক্ষা প্রতিষ্টান হবে। কিন্তু এতো আধুনিক সুযোগ সুবিধা তো আর পাওয়া যাবে না। এবার কাজির সুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও আজ কালের মধ্যেই নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। এই দুটি প্রতিষ্টানই পাকা ভবন। এ দুটিই আমাদের এলাকার আমাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্টান।

বন্দরখোলা ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড সদস্য মো. ইসমাইল জানান,’বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হতে থাকে স্কুলের ভবনের মধ্য থেকে। খবর পেয়ে অসংখ্য মানুষ ট্রলারে করে বিদ্যালয়টি দেখতে আসে। আমাদের সামনেই বিদ্যালয়টি মাঝখান থেকে ফাটল ধরে পেছন দিকে হেলে পরে।’

তিনি আরো জানান,’বিদ্যালয়টি মনোরম পরিবেশে একটি দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয় ছিল। গতকাল রাতে বিদ্যালয়টি ভাঙন ধরলে এলাকাবাসী আবেগে আপ্লুত হয়ে পরে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন জানান, চরের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার অনিশ্চত জীবন শুরু হলো।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো আসাদুজ্জামান জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এবং করোনার প্রভাব মুক্ত হলে চরে অস্থায়ী ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English