জানা যায়, নানা কারণে প্রকল্পের সময়-ব্যয় বেড়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল বৃদ্ধির কারণে সকল প্যাকেজের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালের পূর্বে রাস্তা খনন ফির সঙ্গে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট বিল সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার প্রচলন ছিল না। নতুন এ ব্যয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের জিওবি অংশে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে ২টি পরামর্শক ও ২টি এনজিও প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ মোট ৪৩৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৩ কোটি ২১ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, পরিশোধিত পানি সরবরাহের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীতে টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতিকরণে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ঢাকা ওয়াসার লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ এমএলডি (মিলিয়ন লিটার পার ডে) ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা ৩০ শতাংশ কমানো ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
মূল প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল। নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন নাগাদ বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এএফডি ও ইআইবি ঋণ ৫ হাজার ৪৪২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মামুন-আল-রশীদ বলেন, চলমান পানি শোধনগার নির্মাণ, ইনটেক ও অপরিশোধিত পানির লাইন স্থাপন (প্যাকেজ -১) খাতে ১ হাজার ১১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিশোধিত পানির লাইন স্থাপন (প্যাকেজ -২) খাতে ৪১২ কোটি ৪৮ লাখটি টাকা এবং ভ্যাট, ট্যাক্স ও সিডি খাতে ৩১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপন, ৫০টি গভীর নলকূপ স্থাপন, প্রতিস্থাপন প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার ফলে ৫৬০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বেড়েছে। এসব কারণেই মূল প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।