একজন ধর্ষক পাপিষ্ঠের খাতায় নাম লেখায়, তার ছেলেবেলা, বাবা-মা, আত্মীয় পরিজন হয়তো ছিল না কখনোই। কি তার পরিচয়!
ধর্ষণ মানে অত্যাচার, নিপীড়ন, অমানবিকতা, একটি আত্মার মর্মবেদনা। পরোক্ষভাবে ধর্ষকশ্রেণী শয়তানেরই সাহায্যকারী, মনোবাঞ্ছনাকারী। শয়তান বিতাড়িত এক ভয়ার্ত জঞ্জাল। কোথাও ঠাঁই নেই তার। মানবের মনে সে সার্বক্ষণিক ফুৎকার দেয়। অলক্ষ্যে হাঁসে। কুরআনে এসেছে, ‘সে (শয়তান) বলল তোমার ইজ্জতের কসম, আমি এদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করবই। তবে একমাত্র যাদেরকে তুমি একনিষ্ঠ করে নিয়েছ তাদেরকে ছাড়া। (সূরা সা-দ : ৮২-৮৩)
তবে ধর্ষকরাও আজ বিতাড়িত। সহজভাবে বলতে গেলে তারাও শয়তান। শয়তান তার রূপ বদলায়, কখনো খারাপ, কখনো ভালো, সাধু অথবা নৃশংস, কখনো দরবেশ আমার বিধর্মী। অর্থাৎ তার কোনো ধর্ম নেই বা জাত নেই। সে বহুরূপীতায় গড়া এক ভয়ঙ্কর মায়াজাল, কখনো হিংস্র, কখানো বিনয়ী। তবে বুঝা মুশকিল কে শয়তানরূপী মানুষ। কে শয়তানরূপী মানবের মাঝে ধর্ষক। তবে ঈমানদাররাই বুঝবে কার মাঝে সত্যতা লুকায়িত। ঈমান আমল যার মজবুত সে বুঝবে শয়তানরূপী মানব তার ক্ষতির কারণ কিনা।
কথা হচ্ছিল নারী সমাজকে নিয়ে। নারী নিজেকে কিভাবে বাঁচাবে? হাটে-বাজারে, স্কুল-কলেজে, অফিসে, বাসে, রিকশায় বা যানবাহনে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ তাকেও করতে হয় জীবনকে পরিপূর্ণতায় আনবে বলেই।
মেয়ে হচ্ছে ফুলের সুগন্ধিতে ভরপুর। মুগ্ধতার, স্নিগ্ধতার কারসাজি করা আবেশে ছড়িয়ে পড়ে তার কথা, সুরলহরি, সেই সুবাস এক অণু হতে অন্য অণুতে গিয়ে মধুরতায় রূপ নেয়। এমনই অবলা, নিরীহ, সৌন্দর্য্যে পরিমণ্ডিত সে লুকায়িত থাকে কি করে?
এক্ষেত্রে করণীয় হতে পারে, সৃষ্টিকর্তার সাহায্য চাওয়া প্রতিটি ক্ষণে। আর যিনি নারীকে এমন করে সৃষ্টি করলেন তিনি অবশ্যই এই নারীর সমাজের ভালোভাবে বেঁচে থাকার এবং পবিত্র জীবন পরিচালনা করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব আল্লাহর দেয়া দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ কুরআন ও রাসূলের বাস্তব জীবন নিঃসৃত হাদিসের অনুসরণ করা। একমাত্র কুরআন ও হাদিসের দেখানো পথ অনুসরণ করলেই নারীরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চলতে পারবে। এখানে শুধু নারীদের জন্য দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি বরং সমাজকে ভালো রাখতে হলে পুরুষদের কী কী করতে হবে সে বিষয়েও বলা হয়েছে।
রক্ষাকর্তা তিনিই যিনি মানবকুল সৃষ্টি করেছেন। তিরি রক্ষা কি সরাসরি করবেন? তিনি কুরআনুল কারিমে সূরাতুল ফালাক ও সুলাতুন নাসে রক্ষাকবচ দিয়েছেন। দোয়া পড়ে নিজেকে হেফাজত করা বা বলা যায় খারাপদের চোখকে ধুলা দিয়ে চলতে পারা। শয়তানের চোখ সর্বত্র থাকে তবে সর্বশক্তিমানের নাজিলকৃত কুরআনের আয়াতের দৃষ্টিশক্তির তীক্ষèতা অনেক পরিব্যাপ্ত। আমলকে দৃঢ় ও মজবুত করতে কুরআনকে অর্থসহ পঠন ও অধ্যয়নের বিকল্প নেই।
আজ ধর্ষকরা সমাজে নিগৃহীত, বিতাড়িত। প্রতিবাদী সমাজ তাই সোচ্চার হয়েছে ‘ভয় নেই নারী তোমার’ স্লোগানে। ভয় তো ধর্ষক পাপিষ্ঠের। বিচার তাদের হবেই। অনন্ত সময়ব্যাপী তারাইতো হবে দোজখি। রেহাই নেই সেখানে তাদের। সেখানে নেই ঘুষ, নেই জামিন, নেই স্বজনপ্রীতি, নেই কোনো দরদি। হে নারী! তুমি নির্যাতিতা, নিরপরাধ, লালসার শিকার। জুলুমের শিকার যারা তাদের জন্য খোদার বেহেশতের দরজা রয়েছে খোলা।