শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি পেতে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৩১ মে, ২০২১
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন
কৃষি ঋণে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য

আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি পেতে যাচ্ছে এ মন্ত্রণালয়। এ বছর কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিকীকরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, গবেষণাসহ নানা বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট সাজানো হয়েছে। তবে কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট অন্যান্য বছরের তুলনায় আরও বড় পরিসরে হওয়া উচিত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম বলেন, এবারের বাজেটে আমরা গত বছরের চেয়ে বেশি বরাদ্দ পেতে যাচ্ছি। বাজেটে কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ, গবেষণা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে যে বিষয়গুলো জড়িত রয়েছে; বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা, দ্রুত সময়ে ফসল কর্তন, সংগ্রহ এবং গবেষণার ওপর আমরা বেশি জোড় দিয়েছি। আসন্ন বাজেটে কৃষি প্রণোদনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলো কৃষকের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়কেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আর ভর্তুকিতে বরাবরের মতো এবারও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। সারে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দসহ সবই রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উৎপাদনেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যোগ করেন সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, বাজেটে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ, গ্রামীণ যুব সমাজকে কৃষিতে আকর্ষিত করতে ঋণ ‍সুবিধা বাড়ানো, কৃষি পণ্য রপ্তানি, কর্মসংস্থানসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এসব ক্ষেত্রে বাজেটে বরাদ্দ যথেষ্ট রাখা উচিত। সে হিসাবে করোনা পরিস্থিতিতে বাজেট বড় অঙ্কের হওয়া উচিত। কৃষকদের অনুপ্রাণিত করতে তাদের সমস্যাগুলো বুঝে প্রণোদনাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেটে যথেষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ রাখা উচিত। এর বাইরে তৃণমূলে কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণেও ঋণ সুবিধা দেওয়া যায় কি না সেটাও ভাবা দরকার। ভর্তুকির পরিমাণ ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা রাখা হলে তৃণমূলের অংশগ্রহণ বাড়বে। এছাড়া কৃষিপণ্য চলাচলে বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা যায় কি না এটাও ভাবার সময় এসেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে কৃষি যন্ত্রপাতি কেনায় ৬৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। হাওর অঞ্চলে কৃষি যন্ত্রপাতি কেনায় ডাউন পেমেন্ট কমানোর বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের বাজেট শাখা থেকে জানানো হয়, আসন্ন অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে অর্থবিভাগে ২২ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে ওই বিভাগ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৬ হাজার ১২৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ পরিমাণ টাকার মধ্যে পরিচালন বাজেটে ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। উন্নয়নে আছে ২ হাজার ৯৫৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। কৃষি ভর্তুকিতে রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কৃষি পুনর্বাসন সহায়তায় আছে ৪০০ কোটি টাকা।

এ সূত্রে জানায়, এ বছর ভর্তুকি ১৩ হাজার কোটি টাকা চাহিদা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এর উত্তরে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, যা জরুরি দরকার তা দেওয়া হবে। কোভিডকে মাথায় রেখে বাজেট তৈরি করা হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট-  গত অর্থ বছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয় ১৫ হাজার ৪৪১ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন ১৭টি অধিদফতর-সংস্থার মাধ্যমে ব্যয় করা হচ্ছে এ অর্থ। বাজেটে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকিসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয় ধরা হয় ১২ হাজার ৮৯৭ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৫৪৩ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English