চার্লস ব্যাবেজ আবিষ্কার করেছিলেন আসন্ন প্রজন্মের অগ্রসরের সবথেকে বড় হাতিয়ার কম্পিউটার। কিন্তু বেশ কিছু কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করা হয় মূলত ১৯৬০ এর দশকে। কিন্তু এসব প্রোগ্রামিং ভাষা অন্য কাজে ব্যবহার করা হতো।
কিন্তু কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা এমন একটি ভাষার প্রয়োজন অনুভব করেন যা দিয়ে আসলে সফটওয়্যার বানানো সম্ভব। এ চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই অ্যালগল ৬০ এবং সিপিএল নামক দুটি ভাষার জন্ম হয়। কিন্তু সিপিএল শেখা ও ব্যবহার করা তুলনামূলক কঠিন ছিল বলে এ প্রোগ্রামিং ভাষা তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। তারপরই আসে জাভা।
জাভা স্ক্রিপ্ট : জাভা একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। সান মাইক্রোসিস্টেম ৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে জাভা ডিজাইন করার পরে এটি অতি দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষার একটিতে পরিণত হয়। জাভার এ জনপ্রিয়তার মূল কারণ এর বহনযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ও ওয়েব প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি পরিপূর্ণ সাপোর্ট।
যেভাবে জাভা এসেছে : জেমস গসলিং, মাইক শেরিডান এবং প্যাট্রিক নওটন ১৯৯১ সালের জুনে জাভা ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোজেক্ট শুরু করেন। প্রথমদিকে জাভা ল্যাঙ্গুয়েজকে ‘IK(Oak)’ বলা হতো। জেমস গসলিংয়ের অফিসের বাইরের ওক গাছের সঙ্গে মিল রেখে এ নাম রাখা হয়। এরপর এর নাম রাখা হয় ‘গ্রিন’ এবং অবশেষে জাভা কফির সঙ্গে মিল রেখে ‘জাভাতে পরিবর্তন করা হয়। ১৯৯৫ সালে সান মাইক্রোসিস্টেমস জাভা-১.০ প্রকাশ করেন। তাদের মূলনীতি ছিল একবার লিখুন, যে কোনো জায়গায় চালান (Write Once, Run Anywhere or WORA)।
বহনযোগ্যতা : জাভার আগের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলোতে এক অপারেটিং সিস্টেমের জন্য লেখা প্রোগ্রাম অন্য অপারেটিং সিস্টেমে চালানো যেত না। জাভায় লেখা প্রোগ্রাম যে কোনো অপারেটিং সিস্টেমে চালানো যায় শুধু যদি সেই অপারেটিং সিস্টেমের জন্য একটি জাভা রানটাইম এনভায়রনমেন্ট (জাভা ভার্চুয়াল মেশিন) থেকে থাকে।
এ সুবিধা জাভাকে একটি অনন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত করে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে, যেখানে অসংখ্য কম্পিউটার যুক্ত থাকে এবং কম্পিউটারগুলো বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে সেখানে জাভায় লেখা অ্যাপলেটগুলো সব কম্পিউটারে চলতে পারে এবং এর জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয় না। জাভার এ সুবিধাকে বলা হয় বহনযোগ্যতা।
বিশ্বব্যাপী বহুল পরিচিত এবং জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জাভাস্ক্রিপ্টের (জেএস) সম্প্রতি ২৫ বছর পূর্ণ হল। ১৯৯৫ সালের ৪ ডিসেম্বর সান মাইক্রোসিস্টেমসের ব্যানারে এ মাল্টি-প্যারাডিজম প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত হয়। বর্তমান সময়ে জাভাস্কিপ্ট ছাড়া ব্রাউজার কিংবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন কল্পনাও করা যায় না। আজকের আয়োজনে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জাভার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং : অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং জাভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রোগ্রামিং জগতে মূলত সিমুলা ৬৭ (প্রোগ্রামিং ভাষা) এবং স্মলটক (প্রোগ্রামিং ভাষা)-এর মাধ্যমে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংয়ের সূচনা হলেও জাভার মাধ্যমেই এটি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পেরেছে। অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংয়ের কারণে জাভায় অতিদীর্ঘ প্রোগ্রাম লেখা এবং ত্রুটিমুক্ত করা অনেক সহজ হয়েছে।
যেভাবে কাজ করে জাভা : জাভা প্রোগ্রামিংয়ে লেখা কোড কম্পাইল হয়ে সরাসরি মেশিন কোড-এ রূপান্তরিত হয় না। বরং তা বাইট কোড নামক বিশেষ একটি মধ্যবর্তী অবস্থায় আসে, যা ক্লাস ফাইলে থাকে। এ ক্লাস ফাইল সরাসরি চলতে পারে না। একে চালাতে গেলে জাভা ভার্চুয়াল মেশিনের মাধ্যমে চালাতে হয়। কারণ বাইট কোড কেবলমাত্র জাভা ভার্চুয়াল মেশিন বুঝতে পারে ।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সান মাইক্রোসিস্টেমস কিনে নেয় ওরাকল। এরপর ওরাকলের মাধ্যমে জাভাস্ক্রিপ্টের ব্যাপক মানোন্নয়ন হয়। মাইক্রোসফটের ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এক পর্যায়ে এসে যে স্ক্রিপ্টে (টাইপরাইটার) করা হয়, সেটিরও মূল ভিত্তি জাভাস্ক্রিপ্ট। এছাড়া প্রায় সব ব্রাউজার এবং বেশিরভাগ ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার হচ্ছে।