করোনা পরবর্তী পড়াশোনা নিয়ে মানসিক চাপে আছেন শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনার চাপ, হতাশা ও সেশনজটের কারণে ৭৬ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মানসিক অবসাদে ভুগছেন। করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী।
শনিবার (৮ অক্টোবর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন। এর আগে ‘মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একাডেমিক চাপের প্রভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা’ শীর্ষক একটি জরিপ পরিচালনা করে সংস্থাটি।
জরিপে ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষার্থী ছিলেন ৪৩.৯ শতাংশ ও নারী শিক্ষার্থী ৫৬.১ শতাংশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরণ বিবেচনায় জরিপে মোট অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ৬৭.৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ২৩.৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের, অন্যান্য ২.২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।
জরিপের তথ্যে দেখা যায়, ৭৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনা পরবর্তী অ্যাকাডেমিক চাপের কারণে বিভিন্ন ধরনের মানসিক এবং গঠনমূলক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ। ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনার আগের তুলনায় পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমে গেছে। ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘন ঘন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছেন। পরীক্ষার সময়ের চেয়ে সিলেবাসের আধিক্য সমস্যায় পড়েছেন ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বল্প সময়ে বড় কোর্স শেষ করার ফলে পড়া বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পড়াশোনার চাপে পরিবারকে সময় দিতে পারছেন না।
করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয় ও উদ্বেগ বেড়েছে বলেও জরিপে উঠে আসে। বলা হয়, ৫৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় ও উদ্বেগ তাদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস আসক্তির কারণে মানসিক সমস্যা বাড়ছে ৭০ দশমিক ৭৩ শিক্ষার্থীর। আর হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতার ফলে শিক্ষাজীবন প্রভাবিত করছে ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীর।