শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

ভাইয়ের জন্য ভালোবাসা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৯ জন নিউজটি পড়েছেন

দুই ভাই। দু’জনের সম্পর্কে ভালোবাসার যতটা না বহিঃপ্রকাশ, তার থেকে অনেক বেশি দৃশ্যমান ঝগড়া-ঝাটি, খুনসুটি, পরস্পরের প্রতি অভিযোগ আর খেলনাপাতির দখলদারিত্ব নিয়ে মৌন যুদ্ধ! করোনার এ সময়ে সারাক্ষন বাসায় থাকতে হচ্ছে। কোথাও যাবার জো নেই। বাসায় থাকলে ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া-ঝাটি লেগে থাকতেই পারে।

কিন্তু দিনশেষে রক্তের বন্ধনই স্পষ্ট। হয়তো একই বিছানা ভাগাভাগি করে ঘুমাতে হয়। ভাই পাশে না থাকলে ঘুমাতে গিয়েও ভয় ভয় লাগে হয়তো অন্য ভাইয়ের। পাশে থাকলে টানটা বোঝা না গেলেও, দূরে গেলে একা আর কিছু ভালো লাগে না। এমন সব দৃশ্য পরিচিত মনে হচ্ছে? যেসব বাড়িতে শৈশবের গণ্ডিতে থাকা বা সদ্য শৈশব পেরোনো দুটি ভাই রয়েছে, সেখানে এমন দৃশ্য প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায়।

শুরুটা সুন্দর হলে পরবর্তী সময়েও তার রেশ রয়ে যায়। তাই বাড়ির দুই ছেলে যখন অবুঝ, তখন থেকেই এই বন্ধনের গুরুত্ব বুঝতে শেখান। ঝগড়া হোক, অভিমান হোক, পরস্পরের প্রতি নালিশ থাকুক, কিন্তু টানটা অটুটই থাকে। ভাইয়ের বিপদে ভাই সবার আগে তাকে আগলে রাখে, সে শিক্ষাই তাদের দিতে হবে।
মিলেমিশে থাকা

মিলেমিশে থাকা মানে যে সারাক্ষণ গলায় গলায় ভাব থাকতে হবে, এমনও কিন্তু নয়। বরং এর মানে হল, একজনের জন্য অপরজনের ছাড় দিতে শেখা। ভাই একটি খেলনা নিয়ে খেলছে বলে, সেই খেলনাটি আমারও এখনই চাই, এমন মানসিকতা যেন গড়ে না ওঠে। বরং দু’জন মিলে ভাগাভাগি করে খেলা করতে শেখান। বুদ্ধির বিকাশ হয়, এমন খেলার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে বলুন। শব্দখেলা, সুডোকু, দাবা, রুবিক্স কিউব ইত্যাদি খেলতে শেখান। তাতে করে খেলার পাশাপাশি শিশুর বুদ্ধির বিকাশ হবে দ্রুত।

কাজে সাহায্য করা

এই বয়স থেকেই একে অন্যকে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠুক। শিশু যদি নিজের ঘর থেকে অন্যের প্রতি ইতিবাচক থাকার শিক্ষা না পায়, তবে বাইরেও সে একই আচরণ করবে। ভাইয়ের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার শিক্ষা পেলে সে তার সহপাঠী কিংবা বন্ধু-পরিজনের সঙ্গেও ঠিক তেমনটা করবে।

কারণ, পরিবারকে বলা হয় প্রথম বিদ্যালয়। যেখানে মা-বাবা হল শিশুর প্রথম শিক্ষক। তাই শিশুকে নিজের কাজটা নিজে করতে শেখান। ভাইয়ের কাজে ভাইকে সাহায্য করতে বলুন। অনেকে কাজের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে পার্থক্য করে দেন। এটি মোটেই উচিত নয়। বরং একজন আধুনিক মানুষ হিসেবে বাঁচতে হলে সবরকম কাজ জানা প্রত্যেকের জন্য জরুরি। সেক্ষেত্রে ছেলেদের কাজ বা মেয়েদের কাজ বলে আলাদা করবেন না। খাবার শেষে নিজের থালাটি ধুয়ে রাখতে শেখান।

একসঙ্গে পড়াশোনা

অনেকে আছেন, যারা অন্য কাজকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে পড়াশোনায় ভীষণরকম ছাড় দিয়ে থাকেন। এটি মোটেও ঠিক নয়। কারণ পড়াশোনা অবশ্যই জরুরি। তবে অতিরিক্ত চাপ কোনো ক্ষেত্রেই ভালো নয়। একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিশুকে পাঠ্যবইয়ের প্রতিও মনোযোগী করতে হবে।

এক্ষেত্রে খেলার ছলে এক ভাই আরেক ভাইকে সাহায্য করতে পারে। তাতে করে শিশু পড়াশোনায় আগ্রহী হয়ে উঠবে। দু’জন মিলে প্রতিযোগিতা করেও পড়া যায়। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকা ভালো। পড়ার সময়টা নির্দিষ্ট করে দিন। এতে করে তারা নিয়মানুবর্তিতা শিখবে।

রক্তের সম্পর্কগুলো মূলত সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব ইত্যাদি বুঝতে শেখায়। যে তার কাছের মানুষকে ভালোবাসে না, সে দূরের মানুষকেও ভালোবাসতে পারে না। ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকলেই কেবল একটি সুখী ও সুন্দর জীবন কাটানো সম্ভব। সুখে কিংবা অসুখে, ভাইয়ের পাশে থাকুক ভাই। শৈশবের ভালোবাসার শেকড় যেন পৌঢ়ত্বেও উপড়ে না যায়। ভালোবাসার অন্তর্জাল ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাশূন্যে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English