শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

ভারতের শিক্ষানীতিতে ব্যাপক সংস্কার সূচনা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০
  • ৫২ জন নিউজটি পড়েছেন

ত্রিশ বছর পর জাতীয় শিক্ষানীতিতে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে ভারত। এতে দেশের সব স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষায় শিশুদের মাতৃভাষা কিংবা যে কোনো একটি স্থানীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া তিন থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ইন্টার্নশিপসহ ভোকেশনাল শিক্ষার কথা বলা হয়।
বর্তমানে প্রচলিত ১০+২ স্কুল কাঠামো (দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক ও দুই বছরের উচ্চ মাধ্যমিক) এবং চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্সও বদলানোর কথা বলা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।
সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে জাতীয় শিক্ষানীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনে ভারত সরকার। নতুন শিক্ষানীতিকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, শিক্ষা খাতে এই সংস্কারের জন্য বহু অপেক্ষা করতে হয়েছে। নতুন নীতিতে স্কুলের বাইরে থাকা দুই কোটি শিশুকে মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়।
জানা গেছে, নতুন শিক্ষানীতি অনুসারে বিদেশি ভাষা শিক্ষা শুরু হবে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় থেকে। তবে কোনো শিক্ষার্থীর ওপর কোনো ভাষা চাপিয়ে দেয়া যাবে না। এতে ১০+২ স্কুল কাঠামো বদলিয়ে তা ৫+৩+৩+৪ করার কথা বলা হয়েছে। এতে মোট ১২ বছরের স্কুল শিক্ষার আগে তিন বছরের প্রাক-স্কুল বা অঙ্গনওয়ারি ধাপ রাখতে বলা হয়েছে। এর আওতায় সম্পূর্ণ শিক্ষা বিন্যস্ত হবে চারটি ধাপে।
এগুলো হলো, মৌলিক পর্যায় (তিন থেকে আট বছর), তিন বছরের প্রাক প্রাথমিক (আট থেকে ১১ বছর), প্রস্তুতিমূলক পর্যায় (১১ থেকে ১৪ বছর), এবং মাধ্যমিক পর্যায় (১৪ থেকে ১৮ বছর)।
নতুন শিক্ষানীতির আওতায় স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর পরীক্ষা নেয়ার পরিবর্তে তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে মোট তিনবার পরীক্ষা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতি বছর ‘নিয়মিত ও কাঠামোগত’ স্টাইলে মূল্যায়ন করা হবে। এর ভিত্তি হবে বিশ্লেষণ, চিন্তার সক্ষমতা এবং ধারণা স্পষ্টকরণের সামর্থ্য।
ভারত সরকার বলছে, নতুন শিক্ষানীতির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির চাপ কমানো এবং বিষয়বৈচিত্র্যে তাকে আরো বহুমাত্রিক করে তোলা। আগের মতো কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের মধ্যে পার্থক্য করা হবে না। শিক্ষানীতি অনুযায়ী চার বছর মেয়াদি স্নাতক প্রোগ্রামগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে যাওয়ারও একাধিক সুযোগ দেয়া হবে।
উচ্চ শিক্ষা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হবে হায়ার এডুকেশন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (এইচইসিআই)। তিন হাজার বা তারও বেশি শিক্ষার্থী থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দেবে এই কাউন্সিল।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English