ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সমর্থকদের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। সোমবার ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গঠিত এক সদস্যের কমিটির কাছে ভুক্তভোগীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। দুপুর ১২টা থেকে একটানা পাঁচ ঘন্টা এ কার্যক্রম চলে। মঙ্গলবারও স্বাক্ষ্য নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ঢাকা-১৮ আসনের উপ নির্বাচনে বিএনপির নয়জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। গত ১১ সেপ্টেম্বর দলের মনোনয়ন বোর্ডে স্বাক্ষাতকার অনুষ্ঠানের দিন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কফিলউদ্দিন আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কফিলউদ্দিনের ১৭ জন সমর্থক আহত হন। যার মধ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত গানম্যান হিসেবে পরিচিত একজন বয়োজ্যেষ্ঠকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ দলটির নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আসনের সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে এস এম জাহাঙ্গীরের আপন শ্যালক যিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত; তার বিরুদ্ধে প্রথম আক্রমণের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরা হয় ওই অভিযোগে। এর প্রেক্ষিতে সংঘর্ষের ২১দিন পর গত শুক্রবার দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে দিয়ে এক সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করে বিএনপি। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষিকে চিহ্নিত করে দলের সিনিয়র নেতারা এই আসনে মনোনয়ন দিতে চাইছেন। গত শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির প্রধান খায়রুল কবির খোকন সংঘর্ষের ঘটনায় আহত এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীকে তার মতিঝিল কার্যালয়ে স্বাক্ষ্য দেওয়ার ডাকেন। এর প্রেক্ষিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, যুগ্ম সম্পাদক কফিলউদ্দিন আহমেদ ও আক্তার হোসেন, জিয়াউর রহমানের গানম্যান হিসেবে পরিচিত এম এ জলিল এবং অন্যান্য আহতরা যান। তারা ঘটনার সময়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং হামলাকারীদের পরিচয় তুলে ধরেন। তাদের সবার বক্তব্য ভিডিও আকারে তুলে নেন খায়রুল কবির খোকন। এছাড়া তাদের লিখিত বক্তব্যও নেন তিনি।
এ বিষয়ে খায়রুল কবির খোকন জানান, তিনি নিরপেক্ষভাবে ঘটনার প্রকৃত তথ্য তুলে আনার চেষ্টা করছেন। খুব শিগগির তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সমাপ্ত করতে পারবেন বলে আশাবাদী।