রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন

মাজার ও ধর্মীয় অনুভূতি মিশ্রিত শিরক

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬০ জন নিউজটি পড়েছেন

এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার যে, তাওহিদের শিক্ষা না থাকলে মানুষ শিরক বিদ’আত ও হ্নকুসংস্কারের মাতো কাজে লিপ্ত হবে। ইসলামের নামে মানুষ এমন সব কাজ করবে যা হ্নআসলে ইসলামী কাজ নয়। দীনের নামে বেদীনি কাজ সমাজে হতে থাকবে। এ দেশে হ্নধর্মীয় অনুভূতি নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে মাজার নামক হাজার হাজার শিরকের আড্ডা। হ্নমানুষ সেসব মাজারে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা বলে। মাজারে শায়িত ব্যক্তির হ্নকাছে নিজেদের সমস্যার সমাধান কামনা করে। মানুষ একবার ভেবেও দেখে না যে, হ্নওইসব মাজারের লোকেরা নিজেরাই এখন নিজেদের কল্যাণের জন্য কোনো কাজ করতে হ্নপারে না। কারণ রাসূল সা: আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত মুসলিম শরিফের এক হাদিসে হ্নবলেছেন, ‘যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল (করে সাওয়াব পাওয়ার পথ) বন্ধ হ্নহয়ে যায়। তবে তিনটি পথ তখনও খোলা থাকে। সাদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা হ্নদ্বারা মানবজাতি উপকৃত হয় এবং এমন সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’
মানুষ ভাবে না, কোনো মৃত মানুষ যদি আমলে ছালেহ বা সৎকর্ম করতে পারত তাহলে কোনো মানুষই জাহান্নামে যেত না। কারণ যাদের দুনিয়াতে জান্নাত জাহান্নামের ব্যাপারে সন্দেহ ছিল এমন মানুষেরও মারা যাওয়ার পর সে ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাই তারা তখন কবরের মধ্যে থেকেই আমলে হ্নছালেহ করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করত। তারা রাত দিন পরিশ্রম করে জান্নাতে যাওয়ার ব্যবস্থা করত। সুতরাং যে মানুষটি কবরে থেকে নিজের কল্যাণের জন্য কোনো কাজ করতে পারে না, সে মানুষটি কী করে আমার কল্যাণ করবে? তা মানুষ ভাবে না। যে মানুষটি নিজের বিপদ দূর করতে পারে না সে মানুষটি হ্নকী করে আমার বিপদ দূর করবে তাও ভাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি আল্লাহ তোমার কোনো ক্ষতি করেন তবে তিনি ব্যতীত তা অপসারণকারী আর হ্নকেউ নেই। পক্ষান্তরে যদি তিনি তোমার কোনো ভালো করেন তবে তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি পরাক্রমশালী স্বীয় বান্দাদের ওপর। তিনি জ্ঞানময় সর্বজ্ঞ।’ (সূরা আনআম : ১৭-১৮)
অতএব উপরিউক্ত আয়াতের বক্তব্য অনুযায়ী মানুষের লাভ ক্ষতির একমাত্র মালিক আল্লাহ। আল্লাহ না চাইলে কেউ কারো সামান্য উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও হ্নকরতে পারে না। হ্ন
রাসূল সা: একবার আবদুলাহ ইবনে আব্বাসকে বলেন, ‘হে বৎস! তুমি আল্লাহকে স্মরণ রাখবে আল্লাহ তোমাকে স্মরণ রাখবে। তুমি আল্লাহকে স্মরণ রাখো তাকে তোমার সাহায্যকারী হিসেবে পাবে। যদি কিছু চাও তাহলে আল্লাহর কাছে চাও। আর যদি কোনো সাহায্য চাও তাহলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। আর জেনে রাখো যে, সমগ্র উম্মত যদি একত্র হয়ে তোমার কোনো কল্যাণ করতে চায় পারবে না কেবল তা ছাড়া যা আল্লাহ তোমার ভাগ্যে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তারা যদি একত্র হয়ে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায় পারবে না কেবল তা ছাড়া যা আল্লাহ তোমার ভাগ্যে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে আর সহিফাও হ্নশুকিয়ে গেছে।’
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে তাঁর রাসূলকে এ মর্মে আদেশ করেন যে, তিনি যেন হ্নমানুষকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি বলে দিন আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক হ্ননই। কেবল তাছাড়া যা আল্লাহ চান।’ (সূরা আরাফ : ১৮৮)
অপর এক আয়াতে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বলেন, ‘আপনি তাদের বলুন আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি সাধন করার ও সুপথে আনার মালিক নই।’ (সূরা জিন : ২১)
এই যদি রাসূল সা:-এর অবস্থা হয়; অথচ তিনি শ্রেষ্ঠ আদম সন্তান যার পূর্বাপর সব পাপ মাফ করে দেয়া হয়েছে, যাঁকে অলিকুল শিরোমণি বানানো হয়েছে তাও তাঁর জীবিতাবস্থায়, তাহলে কোন সে অলি, গাওছ-কুতুব ও আবদাল যে মানুষের লাভ লোকসান করতে পারে এমনকি মৃত্যুর পরেও?
তাওহিদের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবনের জন্য দাঈদেরকে অবশ্যই বুখারি শরিফের কিতাবুত তাওহিদ অধ্যায়, শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহ্হাবের ‘কিতাবুত তাওহিদ’ বা ইসমাঈল শহীদের ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ বা ইসমাঈল ফারুকীর ‘আত তাওহিদ’ বা ওসমান বকরের ‘তাওহিদ ও বিজ্ঞান’ এর মতো গ্রন্থগুলো ভালো করে বুঝে অধ্যয়ন করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English