রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

মুসলমানদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৬০ জন নিউজটি পড়েছেন

ইসলামে এক মুসলমান অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমান ভাইয়ের রয়েছে দ্বীনি অধিকার।
এ সম্পর্কে বিশ্বনবী মোহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান একে অপরের ভাই। প্রত্যেকের জন্য জরুরি যে, কেউ কারো ওপর জুলুম-অত্যাচার করবে না। আর যদি অন্য কেউ তার ওপর জুলুম-অত্যাচার করে তবে একে অপরকে একা ফেলে যেন চলে না যায়। সম্ভব হলে তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে এবং সাথে থাকবে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার নিজের ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসবে। আর যে মুসলমান অন্য মুসলমান ভাইয়ের কষ্ট দূর করে দেবে প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের কঠিন দিবসে তার কষ্ট দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি অন্য মুসলমান ভাইকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকেও ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
অন্য হাদিসে প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। শত্রুতা রেখো না, গিবত করো না। এক আল্লাহর বান্দা হয়ে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে মজবুত করে নাও।’
কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার অন্য মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সময় সালাম-কালাম ত্যাগ করে থাকবে।
অপর হাদিসে রাসূল সা: বলেন, ‘এক মুসলমানের জানমাল এবং ঈজ্জত আব্রু নষ্ট করা অন্য মুসলমানের জন্য হারাম।
বিশ্বনবী রাসূল সা: এক দিন সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করলেন, বলো তো দরিদ্র ও রিক্তহস্ত কে?
সাহাবিগণ বললেন, ‘দরিদ্র ওই ব্যক্তি যার টাকা-পয়সা নেই’। রাসূল সা: বললেন, ‘না, আমাদের মধ্যে দরিদ্র ব্যক্তি সেই, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা, দান খয়রাতের ভাণ্ডার নিয়ে উপস্থিত হবে, কিন্তু দুনিয়াতে সে কাউকে গালিগালাজ করছিল, কাউকে অপবাদ দিয়েছিল, কাউকে মারপিট করেছিল, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছিল। যখন তাকে হিসাব নেয়ার জন্য দাঁড় করানো হবে, তখন ওইসব দাবিদার লোকেরা এসে জড়ো হবে আর তাদের প্রাপ্য পরিমাণ তার সওয়াব থেকে তাদেরকে পরিশোধ করা হবে। এমনকি একসময় তার সওয়াব শেষ হয়ে যাবে। অতঃপর, ওই দাবিদারদের গুনাসমূহ তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এ হাদিসে সরাসরি ভ্রাতৃত্বের কথা উল্লেখ না থাকলেও এখানে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত। অর্থাৎ এখানে বান্দার হক নষ্ট না করার বিষয়ে গুরত্বারোপ করা হয়েছে। আর বান্দার হক নষ্ট না করা মানেই ভ্রতৃত্বের বন্ধন শক্ত হওয়া। কারণ সব মুসলমান ভাই ভাই।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সব মুসলমান ভাইয়ের মাঝে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মায়ামমতা আর ভালোবাসার বন্ধনে এক হয়ে জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন, আমীন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English