সাধারণত সমাজের ধার্মিক মানুষ মারা গেলে তাঁর নামের শেষে ‘রহমাতুল্লাহি আলাইহি’ লেখা হয়। শরিয়তে মৃত ব্যক্তির নামের শেষে রহমাতুল্লাহি আলাইহি লেখার বিধান কী?
উত্তর : শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সব মৃত মুসলমানের জন্য ‘রহমাতুল্লাহি আলাইহি’ পাঠ করা বা লেখা বৈধ। রহমাতুল্লাহি আলাইহি—যা সংক্ষেপে (রহ.) লেখা হয় তা এক প্রকার দোয়া। এ বাক্যের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর রহমত বা অনুগ্রহ প্রত্যাশা করা হয়। তাই মুমিন অবস্থায় মারা গেছে এমন সবার জন্য তা পাঠ করা বা লেখা বৈধ। যদিও মৃত ব্যক্তি তাঁর জীবনকালে ‘কবিরা গুনাহ’ (বড় বড় পাপ) ও ‘বিদআতে’ লিপ্ত থাকে। ইমাম তহাবি (রহ.) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমরা কিবলার অনুসারী প্রত্যেক নেককার ও পাপীর পেছনে নামাজ আদায় করা এবং তাদের কেউ মারা গেলে তাঁর জানাজা আদায় বৈধ মনে করি।’ (আদিকাতুত তহাবি, পৃষ্ঠা ২২)
আর জানাজার নামাজ ও ‘রহমাতুল্লাহি আলাইহি’ পাঠ করার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা উভয়টি মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও কল্যাণ কামনা করা হয়। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘যে মুসলমানের ব্যাপারে ‘নিফাক’ (কপটতা) প্রমাণিত নয়, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা ও তার জানাজা পড়া বৈধ; বরং তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও অনুগ্রহ প্রার্থনার অনুমোদন দেওয়া হবে এবং তার নির্দেশ দেওয়া হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার এবং মুমিন নর-নারীর ত্রুটির জন্য।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৯; মাজমুউল ফাতাওয়া : ২৪/২৬৪)
তিনি আরো বলেছেন, ‘যে মুসলমানের ব্যাপারে গোপন কুফরি প্রমাণিত নয়, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা ও তার জানাজা পড়া বৈধ। যদিও তার ভেতর বিদআত ও গুনাহ পাওয়া যায়।’ (আল-ঈমান, পৃষ্ঠা ১৭২)
তবে বিশেষজ্ঞ আলেমদের অভিমত হলো, প্রকাশ্য পাপাচারে লিপ্ত ছিল এমন ব্যক্তি মারা গেলে তার প্রশংসা ও গুণগান পরিহার করা বাঞ্ছনীয়, যাতে অন্যরা পাপকাজে উৎসাহিত না হয়। একই কারণে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এমন ব্যক্তির নামের সঙ্গে ‘রহমাতুল্লাহি আলাইহি’ বলা বা লেখা থেকে বিরত থাকতে পারেন।
সব মৃত মুমিনের জন্য ‘রহমাতুল্লাহি আলাইহি’ বলা বৈধ হলেও জীবিত ব্যক্তিদের ভালো কাজে উৎসাহিত করতে এবং মন্দ কাজ থেকে নিরুৎসাহ করতেই সাধারণত নেককার মানুষের নামের শেষে ‘রহমাতুল্লাহি আলাইহি’ যুক্ত করা হয় এবং পাপকাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের নামে তা যুক্ত করা হয় না।