শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন

মৎস্য খাতে ক্ষতি ৭৯০ কোটি টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

বন্যায় মৎস্যচাষীদের ব্যাপক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার পুকুরের মাছ। মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, উত্তর-মধ্যাঞ্চলসহ বন্যায় সব মিলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় শতশত একর চিংড়ির ঘের ভেসে গেছে।

তাছাড়া বাণিজ্যিক মৎস্যচাষী হিসেবে নিবন্ধিত নন; কিন্তু নিজেদের পুকুর-ডোবায় যারা মাছ চাষ করতেন, তারাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাছের ঘেরের সঙ্গে তলিয়ে গেছে পুকুর-ডোবাও। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনকারীদের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। অধিদফতর বলছে, এ বন্যার আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পানেও উপকূলীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক মৎস্যচাষীরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আম্পান ও চলমান বন্যা মিলিয়ে মৎস্য খাতে ৭৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যে অতিবৃষ্টি ও অতি জোয়ারে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়েছে। বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় বন্যায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অঞ্চলের কীর্তনখোলা, তেঁতুলিয়া, পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর, বুড়িশ্বর, নয়াভাঙ্গানি ও মেঘনা নদীর পানি সমতল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অঞ্চলে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়বে।

মৎস্য অধিদফতরের হিসাবে, দেশে প্রায় ২৫ লাখ পুকুর আছে। গ্রামের মানুষের ৮০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ সাগর ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম জানান, আমরা মাঠপর্যায় থেকে চাষীদের তালিকা সংগ্রহ করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে। মাছের পোনা, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করতে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শুধু মাছ নয়, ক্ষতি হয়েছে পশুপালনেও। বন্যায় পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে গরু-ছাগলেরও।

মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক (মৎস্য চাষ) মো. সিরাজুর রহমান বলেন, বন্যায় বিভিন্ন চাষের সঙ্গে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলমান বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করাসহ মাছ চাষে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের তালিকা করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সহযোগিতা করা হবে। সিরাজুর রহমান আরও বলেন, আমাদের জাতীয় অর্থনীতির সবচেয়ে উজ্জ্বল খাতগুলোর অন্যতম মৎস্য খাত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মাছের পোনাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাদ্য বিতরণ করতে হবে। এ খাতে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করতে হবে। এ খাতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বাড়িঘর, সড়ক ও ফসলি জমির পাশাপাশি চলমান বন্যায় মাছের ঘের এবং পুকুর ও ডোবার বড় ক্ষতি হয়েছে। ১৩ হাজার ২০১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জলাভূমির মাছ ভেসে গেছে। শতশত একর চিংড়ির ঘের পানিতে ভেসে গেছে। মৎস্য অধিদফতরের হিসাবে, এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। সেখানে মোট ৫২ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরা ও যশোর এলাকার ঘেরের বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে যায়। এদিকে বেসরকারি সংস্থা বিসেফ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চলমান বন্যায় মৎস্যচাষীদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আরেক হিসাবে দেখা গেছে, বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মৎস্যজীবী এ ক্ষতির শিকার হন। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হলে চাষীদের যথাযথ সাহায্য সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৎস্যচাষীদের এখন পর্যন্ত সেভাবে কোনো সাহায্য-সহায়তা দেয়া হয়নি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ে মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হলে বিশেষ বরাদ্দ থাকতে হবে। বিশেষ ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না হলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন শুধু নামেই থাকবে। মাছ লালনপালনের সাধারণত যে সময়টা নির্বাচন করা হয়, সেই পুরোটা সময় ধরেই করোনার সময় চলছে। করোনা ও লকডাউনে যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বন্ধ থাকায় অনেক চাষী পোনা সংগ্রহ করতে পারেননি। এতে তারাও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English