বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

যশোরে কলেজছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ, বিচারিক তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০
  • ১৯০ জন নিউজটি পড়েছেন

যশোরে ইমরান হোসেন নামের এক কলেজছাত্রকে ‘পুলিশের নির্যাতনের’ অভিযোগ বিচারিক তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার নিচে নন, এমন বিচারিক কর্মকর্তা দিয়ে ওই ঘটনা তদন্ত করতে যশোরের জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসানের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ইমরান (২৩) যশোর সদর উপজেলার কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। গত ৩ জুন যশোরে ‘পুলিশের নির্যাতনে’ কলেজছাত্রের কিডনি অকেজো বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এসব যুক্ত করে নির্যাতনের অভিযোগ বিচারিক তদন্ত চেয়ে ও ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির ও মোহাম্মদ কাউছার ১৮ জুন হাইকোর্টে একটি রিট দাখিল করেন। শুনানি নিয়ে ২৩ জুন হাইকোর্ট ওই শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন এবং ওই ঘটনায় পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেন। এ অনুসারে যশোরের পুলিশ সুপার ওই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সিভিল সার্জন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন ২৮ জুন রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে আদালতে দাখিল করেন। সেদিন আদালত ইমরানের ডোপটেস্টের রিপোর্টসহ তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল করতে যশোরের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। এ অনুসারে ইমরানের ডোপ টেস্টের রিপোর্টসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র আজ আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির। ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

পরে আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই কলেজশিক্ষার্থীকে মাদকসেবী বলে উল্লেখ করা হয়। তখন আদালত শিক্ষার্থীর ডোপ টেস্টের রিপোর্টসহ তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করতে যশোরের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। সোমবার দাখিল করা ডোপ টেস্টের রিপোর্টে জানা গেছে ইমরান মাদকাসক্ত নন। তবে সিভিল সার্জন মতামত দিয়েছেন যে বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসাধীন থাকা এবং এখনো ওষুধ সেবন করছেন বলে ইমরানের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে প্রতীয়মান হয়। এমন মতামত সিভিল সার্জন দিতে পারেন না শুনানিতে বলেছি। সেই সঙ্গে পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ বিচারক তদন্তের আরজি জানিয়েছি। সার্বিক বিবেচনায় আদালত ওই ঘটনা বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেন।’

ইমরানকে উদ্ধৃত করে ইতিপূর্বে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ৩ জুন সন্ধ্যার দিকে তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজার থেকে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সাজিয়ালী ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ইজিবাইকটি থামান। এরপর পুলিশ তাঁর সঙ্গে থাকা ছেলেটির ব্যাগ তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় ভয়ে তিনি মাঠের মধ্যে দৌড় দেন। পুলিশ তাঁকে ধাওয়া করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে ধরে বেদম মারপিট করে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক উবায়দুল কাদিরকে উদ্ধৃত করে তখন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইমরান হোসেনের দুটি কিডনির কার্যকারিতা খুবই খারাপ অবস্থায় আছে।

প্রকাশিত খবরের তথ্যমতে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ৯ জুন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল মো. গোলাম রব্বানী শেখকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর তদন্ত কমিটি ১৫ জুন পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। একই দিন যশোর সদর উপজেলার সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুন্সি আনিচুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে পুলিশ বলেছে, নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। প্রশাসনিক কারণে তাঁদের যশোর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English