সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

যেখানে বিনিয়োগ বারণ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

হাতে অঢেল টাকা থাকলে তা কোথাও খাটানোটাই সংগত। কারণ, টাকায় টাকা আনে। বালিশের নিচে টাকা রাখলে ওই টাকা বাড়ে না। তাহলে কোথায় রাখবেন টাকা? সঞ্চয়পত্র ভালো সুদ দেয়। নিঃসন্দেহে ভালো জায়গা। ভরসা করা যায়। যেহেতু সরকার এর নিশ্চয়তা দেয়।

ডাকঘরও সুদ খারাপ দেয় না। এরও জিম্মাদার সরকার। বাকি আছে ব্যাংক। যেকোনো ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি বা মধ্যমেয়াদি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করা যায়। দীর্ঘমেয়াদির প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে না। কারণ, নয়-ছয় সুদ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ব্যাংকগুলো নিজেরাই এখন দীর্ঘমেয়াদি এফডিআর নিতে উৎসাহী নয়।

টাকা খাটানোর আরেকটি আলোচিত খাত আছে। সেটা পুঁজিবাজার। অন্যগুলোর সঙ্গে তুলনায় খাতটি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বুঝেশুনে এগোতে পারলে ঝুঁকির মাত্রা কমানোর সুযোগ আছে। কম বুঝনেওয়ালাদের জন্য এ খাত নয়। দীর্ঘ মেয়াদে টাকা খাটানোর অন্যতম আকর্ষণীয় খাত এটি। অন্যগুলোর তুলনায় এ খাত থেকে এমনকি বেশি লাভও ঘরে তোলা সম্ভব।

বিমা কোম্পানিতেও অনেকে টাকা খাটান। এ খাত থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর যেমন বোনাস পাওয়া যায়, আবার নির্দিষ্ট সময় পর টাকার অঙ্কও দ্বিগুণ বা আড়াই গুণ হয়ে যায়। পাশাপাশি থাকা যায় বিমার আওতায়।

অথবা আপনি এসবের কোনো পথেই যাবেন না। না-ই যেতে পারেন। টাকা আপনার, সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি বসে বসে খেতে পারেন। যদিও বাংলায় প্রবাদ আছে একটা, বসে বসে খেলে রাজার ধনও ফুরায়। ফুরিয়ে যাক। তবু ভোগ তো করে যেতে পারলেন!
এবার আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। টাকা কোথায় ঘুণাক্ষরেও রাখবেন না বা খাটাবেন না, এটাই হচ্ছে আলোচ্য বিষয়। কষ্টে অর্জিত টাকা হোক বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়াই হোক, তা জলে মানে পানিতে ফেলে দেওয়া নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অবশ্য আপনি চাইলে ফেলতেই পারেন। পানির ধর্ম আছে। ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভাসিয়ে নিয়ে গেলে পানিকে আবার দোষারোপ করতে যাবেন না যেন।

দুর্বল ব্যাংকে বুঝেশুনে আমানত
সরকারি–বেসরকারি ও বিদেশি মিলিয়ে দেশে ৬০টি ব্যাংক আছে। সরকারির মধ্যে সোনালি, অগ্রণী, জনতা, অগ্রণী, বেসিক, বিডিবিএল—৬টি হচ্ছে কোম্পানি। ১১টি আছে বিশেষায়িত। ৯টি বিদেশি, বাকিগুলো বেসরকারি। সরকারি ও বিদেশির মধ্যে আমানত রেখে বিপদে পড়েছেন কেউ, এমন কথা শোনা যায়নি। বেসরকারির ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে সমস্যা হয়।

যেমন ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে আমানত রেখে দেড় যুগেও অনেক আমানতকারী পুরো টাকা ফেরত পাননি। ব্যাংকটির মালিকানা পরে বিক্রি হয়। সেটি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক নাম ধারণ করে। কিন্তু মানুষের আস্থা আর অর্জন করতে পারেনি। ফলে কোন ব্যাংকে টাকা রাখবেন, তার আগে বিবেচনা করতে হবে ব্যাংকগুলো চালাচ্ছেন কারা। ব্যাংকের স্বাস্থ্য কেমন, মানুষ আমানত রাখছে কেমন, মুনাফা কেমন করছে ইত্যাদি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ব্যাংকে টাকা রাখলে মার যাবে না, পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংক আছে, এমন ধারণা যে ভুল, তার ভূরি ভূরি উদাহরণ ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে দেশে।

সুতরাং, সাবধান। নিজ দায়িত্বেই টাকা রাখুন। পরে কাউকে দোষারোপ করা যাবে। কিন্তু নিজের টাকা তোলার জন্য ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যাবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ঝুঁকি আছে
অনুমোদন থাকলেও প্রায় অর্ধেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো না। তারা গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। গ্রাহকেরা প্রতিদিনই সেখানে ধরনা দিচ্ছেন। তাই বেশি মুনাফার লোভে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা মানে দুর্ভোগ ডেকে আনা।

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান নামে একটি বিভাগ আছে। এ বিভাগের কর্মকর্তারা সারা বছর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারকি করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তিন মাস আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে ছয় কোম্পানির খারাপ অবস্থার কথা জানানো হয়। সেগুলো হচ্ছে পিপলস লিজিং, বিআইএফসি, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফারইষ্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও এফএএস ফাইন্যান্স।

এমএলএম কোম্পানিতে বারণ
স্বাধীনতার পর এ দেশের মানুষ বহু স্তর বিপণন (এমএলএম) কোম্পানির নাম প্রথম শুনেছে নব্বইয়ের দশকে জিজিএনের মাধ্যমে। এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মো. রফিকুল আমীন। এখন ডেসটিনি তো একটি ইতিহাস। প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে রফিকুল আমীন ৭ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে।

এমএলএমের লোভনীয় অফারে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠে একসময় শত শত কোম্পানি। এমওয়ে, নিউওয়েসহ অসংখ্য কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। অথচ এমএলএম পদ্ধতির ব্যবসা করার কোনো আইনই ছিল না দেশে। ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়ার পর এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা করার আইন তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আইনের আওতায় এক বছরের জন্য চারটি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া হলেও পরে আর এগুলোর নবায়ন হয়নি। ছয় বছর ধরে একটি কোম্পানিকেও লাইসেন্স দেয়নি সরকার।

কয়েকটি কোম্পানি আদালতে থেকে অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করছে। এই ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের সব এমএলএম কোম্পানিই এখন অবৈধ। অথচ এসব কোম্পানিতে অতি মুনাফার লোভে একশ্রেণির সহজ-সরল মানুষ আমানত রাখছেন। টাকা মেরে চলে গেলে প্রতিকার চাওয়ার জায়গাটাও যে নেই, তা–ও বিবেচনায় রাখছেন না এসব বিনিয়োগকারী।
বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন বলেন, এমএলএম একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত শব্দ। সাধারণ মানুষ কেন এসবে যান, এটা আমারও প্রশ্ন।

মো. জাফর উদ্দীন, মো. জাফর উদ্দীন
দাবি পরিশোধের হার দেখে বিমা কোম্পানি
দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিমা খাতের অবদান এক শতাংশের নিচে। যদিও দেশে ৭৮টি বিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি জীবন বীমা করপোরেশনসহ জীবনবিমা কোম্পানি ৩০টি। বিদেশির মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ এবং ভারতের এলআইসি। কোম্পানিগুলোতে অনেক ধরনের পলিসি করা যায়। দীর্ঘ মেয়াদে টাকাও রাখা যায়।

কিছু পলিসি আছে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের মতো কাজ করে, আবার পলিসি আকারেও কাজ করে। কিন্তু এ খাতের প্রতি মানুষের অনাস্থাও আছে কিছু। অনাস্থার বড় কারণ, সময়মতো দাবি পরিশোধ না হওয়া। এমনও উদাহরণ রয়েছে, মানুষ প্রিমিয়াম দিচ্ছেন, কিন্তু তা কোম্পানিতে জমা হচ্ছে না। আবার পরিচালকেরা কোম্পানি থেকে নানা কৌশলে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন।

বিমা পলিসি করা বা বিমা কোম্পানিতে আমানত করার ক্ষেত্রেও তাই গ্রাহকের ভূমিকাটা বড়। কোম্পানিতে কারা আছেন, ঠিকমতো দাবি পরিশোধ করেন কি না, কোম্পানির আয় কত ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) সভাপতি বি এম ইউসুফ আলী বলেন, বিমা পলিসি করার ক্ষেত্রে কোম্পানির সুনাম ও স্বাস্থ্য দেখে করা উচিত। নাহলে ঠকার আশঙ্কা থাকে। তবে এখন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আছে। কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইডিআরএর কাছে যে কেউ নালিশ জানাতে পারেন।

জেড ক্যাটাগরির শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ
শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার নামে একধরনের শেয়ার রয়েছে। এগুলো পচা শেয়ার নামে পরিচিত। কোম্পানিগুলো, এমনকি এখন আর কোনো পণ্যই উৎপাদন করে না বা করলেও মুনাফা কম বা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না। সাধারণত এসব কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা কম থাকে। হঠাৎ দেখলেন, এ ধরনের কোম্পানির শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। লোভে পড়ে আপনিও বিনিয়োগ করলেন। কিন্তু আপনি যেদিন বিনিয়োগ করলেন, সেদিন থেকেই কমা শুরু হলো। কারণ, আপনি তো জানেন না, এই শেয়ার নিয়ে কারা খেলছেন। কীভাবে কখন এই খেলা তাঁরা শেষ করবেন, তা–ও জানা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে একসময় কমতে কমতে এমন জায়গায় নেমে এল যে আপনার পুঁজিই শেষ। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকাই ভালো।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, জেড ক্যাটাগরির নাম যে জেড ক্যাটাগরি, তা থেকেই বিনিয়োগকারীদের বোঝা উচিত। এই শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ। তবে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই এ শ্রেণির শেয়ার থেকে মুনাফার সম্ভাবনাও বেশি। এখন হচ্ছে বিনিয়োগকারীর নিজের সিদ্ধান্ত।

সমবায়ে সতর্ক থাকুন
হায় হায় কোম্পানির নাম শুনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবু বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, অনেকই অতি মুনাফার লোভে এমন কোম্পানিতে কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। তারপর একসময় সেই টাকা উদ্ধারে জীবন হয়ে যায় ওষ্ঠাগত। কেউ হয়তো ফিরে পান, তবে অধিকাংশই সেই কোম্পানির টিকিটাও খুঁজে পান না। গত এক দশকে সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে হাওয়া হয়ে যাওয়ায় অনেক ঘটনা ঘটার পর বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। এখানে বলে রাখা দরকার, খারাপের ভিড়ে ভালো সমবায় সমিতিও রয়েছে কিন্তু।

সারা দেশে কত সমবায় সমিতি আছে, সেই সংখ্যা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। গত মার্চ পর্যন্ত সরকারের সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি। সেখানে অর্থ জমা করেন ১ কোটি ১৪ লাখ মানুষ। তো ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উধাও হয়ে যাওয়া প্রতারক সমিতির ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সমবায় অধিদপ্তর। তাতে দেখা যায়, ২৬৬টি ‘সমবায় সমিতি’ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করার পর তা আর ফেরত দিচ্ছে না। অধিকাংশই অফিস গুটিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছে।

দেশের আইন অনুযায়ী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান মুনাফার লোভ দেখিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করার অধিকার রাখে না। আর সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধিত সমবায় সমিতিগুলোর যা করার অধিকার আছে তা হলো, নিজ নিজ সদস্যদের অর্থ জমা রাখা। কিন্তু নামসর্বস্ব ওই সমবায় সমিতিগুলো তাদের সদস্যনির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে উচ্চ হারে মুনাফা প্রদানের লোভ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের আমানত সংগ্রহ করে একটা সময় পালিয়ে যায়। তখন প্রতারিত মানুষগুলোর হায় হায় করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

যেখানে বিনিয়োগ বারণ
প্রশ্ন করতে পারেন, এমন ঘটনা কেন ঘটছে? আসল কথা হচ্ছে, সমবায় অধিদপ্তর নিবন্ধিত সমিতিগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি করছে না। সেটা করা হলে বার্ষিক নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে তা ধরা পড়ার কথা। তা ছাড়া সমিতিগুলো নিয়মিত পরিদর্শন হয় কি না, সেটাও সন্দেহ। তেমনটি করা হলে সম্পদ আত্মসাৎ পরিদর্শকদের চোখে ধরা পড়ার কথা।

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা ঘটনা যে বন্ধ হয়নি, তার সর্বশেষ উদাহরণ যশোরের সূর্যের আলো সমবায় সমিতি। গত জুলাইয়ে জেলার বাঘারপাড়া চৌরাস্তায় হাজি সুপার মার্কেটে জননী কম্পিউটারের একাংশ ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করেন আসলাম হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। নারী কর্মী নিয়োগ দিয়ে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ঋণ দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা জামানত সংগ্রহ করা হয়। সাধারণ গ্রাহকদের দৈনিক ডিপোজিট পেনশন স্কিম জমা অনুযায়ী লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এভাবে কয়েক শ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপর হঠাৎ করেই সমিতির অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে অবহিত করেন গ্রাহকেরা। মামলা হয়। আসলাম হোসেনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের।

জানতে চাইলে বাঘারপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন গত শনিবার জানান, ‘৪ জনের টাকা ফেরত দিতে পেরেছি। বাকিদের টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি।’ এই যখন অবস্থা, তখন সিদ্ধান্ত আপনার। সমবায় সমিতিতে বিনিয়োগের আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নিন। অতি মুনাফার লোভে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের মিষ্টি কথায় ভুলবেন না। তাতে লোকসান পুরোটাই কিন্তু আপনার।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English