মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে ‘ফ্রিজিসিয়ান স্যাম্পল’ ওষুধের রমরমা ব্যবসা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫২ জন নিউজটি পড়েছেন

রাজশাহী মহানগরীর লক্ষীপুরে চলছে ফ্রিজিসিয়ান স্যাম্পল ওষুধের রমরমা ব্যবসা। অথচ উৎপাদনকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের বিনামূল্যে দেওয়া এসব ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। কিন্তু চিকিৎসকরা টাকার বিনিময়ে এসব ওষুধ ফার্মেসিতে বিক্রি করে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফার্মেসি থেকে ফ্রিজিসিয়ান স্যাম্পলগুলো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই নগরীতে ফ্রিজিসিয়ান স্যাম্পল ওষুধের কেনাবেচা চলছে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর লক্ষীপুর মোড়ের এমন ৩টি ওষুধের ফার্মেসিতে যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়। ফার্মেসি তিনটিতে অভিযানিক দল অন্তত ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ফ্রিজিসিয়ান স্যাম্পল ওষুধ খুঁজে পেয়েছে।

আরএমপির গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার আবু আহম্মাদ আল মামুন জানান, ফ্রিজিসিয়ান স্যাম্পল ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের অপরাধে তারা মডার্ন মার্কেটের আনোয়ারা ফার্মেসি, বিসমিল্লাহ ফার্মেসি এবং মা-বাবা ফার্মেসিতে অভিযান চালায়। পরে শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আনোয়ারা ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা এবং অন্য দু’টিকে ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করে। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা হয়নি, ওষুধও জব্দ করা হয়নি। ফার্মেসি মালিকরা যেসব স্থান থেকে ওষুধগুলো এনেছিলেন, সেখানেই ফেরত দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরএমপির উপ-কমিশনার আরও জানান, অভিযান পরিচালনার সময় গোয়েন্দা পুলিশ আনোয়ারা ফার্মেসি থেকে রাজশাহীর ৮০ জন চিকিৎসক ও দালালের নামের তালিকা পেয়েছি। ওই তালিকায় রাজশাহীর খ্যাতনামা অনেক চিকিৎসকের নামও রয়েছে। এখন থেকে তালিকাভুক্ত চিকিৎসকদের উপর গোয়েন্দা নজরদারি করা হবে। যেসব দালালের নাম এসেছে তাদেরও নজরদারিতে রাখা হবে। আর এখন থেকে নিয়মিতই ফিজিসিয়ান স্যাম্পল ওষুধের বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযুক্ত আনোয়ারা ফার্মেসির মালিক আহসান হাবিব নাজমুল বলেন, ‘চিকিৎসকরা ফোন করে তাদের বাসায় অথবা চেম্বারে ডেকে নেন। এরপর তাদের ফিজিসিয়ান স্যাম্পল ওষুধ দেওয়া হয়। আর দালালরা নিজেরাই চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ এনে দেন। তারা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ দামে ওষুধগুলো কেনেন।’

আরএমপির উপ-কমিশনার আবু আহম্মাদ আল মামুন জানান, ফ্রিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের এগুলো দেন রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য। এসব ওষুধের প্যাকেটেই লেখা থাকে- ‘এগুলো স্যাম্পল। ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ’। কিন্তু অনেক চিকিৎসক এগুলো ফার্মেসিতে বিক্রি করে দেন। ফার্মেসি মালিকরা তখন এসব ওষুধ পুরনো প্যাকেটে ঢুকিয়ে বিক্রি করেন। এটি অপরাধ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থে অভিযানটি চালানো হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল-মারুফ জানান, স্যাম্পল ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইনে তিনটি ফার্মেসিকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাউকে আটক করা হয়নি। ওষুধ বাজেয়াপ্তও করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাক, এটা আমরা চাই না। কারণ, তারাও টাকা দিয়েই ওষুধগুলো কিনেছেন। আমরা তিন ব্যবসায়ীকে বলেছি- তারা যেখান থেকে ওষুধগুলো কিনেছেন সেখানেই ফেরত দেবেন। এই ফেরত প্রক্রিয়াটা আমরা নিশ্চিত করব। তাহলে ব্যবসায়ীরাও টাকা ফেরত পাবেন এবং ওষুধগুলোও সাধারণ রোগীদের কাছে পৌঁছাবে।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English