রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি মামলাটি আগামী তিন মাসের মধ্যে পুনরায় শুনানি নিয়ে বিচার শেষ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে মামলার আসামি আসিফের জামিন বিবেচনা করতেও বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ। অন্যদিকে বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। তবে শেষ সময়ে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এ মামলায় সিফাতের বাবা আমিনুল ইসলামও শুনানিতে অংশ নেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরদিন সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানের করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাত আত্মহত্যা করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক। এর পর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ সিফাতের স্বামী আসিফ প্রিসলি, আসিফের বাবা মোহাম্মদ রমজান, মা নাজমুন নাহার ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন রাজশাহীর বিচারিক আদালত।
রায়ে সিফাত হত্যা মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে তার স্বামী মোহাম্মদ আসিফ প্রিসলিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। তবে রায়ে আসিফের বাবা মোহাম্মদ রমজান, মা নাজমুন নাহার নজলী ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়। এর পর ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে খালাস চেয়ে আপিল করে আসিফ। অন্যদিকে আসিফের সাজা বৃদ্ধি ও তিন আসামির খালাসের বিরুদ্ধেও আবেদন করে বাদীপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় উভয় পক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার মামলাটি পুনঃবিচারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।