বরগুনায় বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের জন্য আগামি ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০টার দিকে মিন্নির উপস্থিতিতে তার পক্ষের আইনজীবীরা বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এপর্যন্ত মামলায় প্রাপ্তবয়স্কদের ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামিদের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আদালতের কাছে আমরা মিন্নির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। মামলায় সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলে মিন্নির জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন পর্যন্ত মিন্নি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে থাকবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভূবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এর আগে এই মামলায় ৭৬ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে আসামি পক্ষের যে সকল যুক্তিতর্ক ও হাইকোর্টের নির্দেশনা তুলে ধরছি সেগুলো আগামী ১৬ তারিখ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর আসামীরা বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। গুরুতর অবস্থায় আহত রিফাত শরীফকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই দিনই তিনি মারা যান।
গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুইভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।
এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছে। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক ৮ আসামি উচ্চ আদালত এবং বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছেন।