জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শিশু এবং তাদের পরিবার এখন নতুন সংকটের মুখোমুখি।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, কভিড-১৯-এর কারণে ক্যাম্পে শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ থাকায় রোহিঙ্গা শিশুরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
ইউনিসেফ জানায়, অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ক্যাম্পে কভিড-১৯-এর হুমকি ঠেকাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক জিন গফ বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা এসব রোহিঙ্গা শিশু এবং পরিবারগুলো অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। অকল্পনীয় কঠিন পরিস্থিতিতে তারা রয়েছে; যা মৌসুমি বৃষ্টি ও বৈশ্বিক মহামারির কারণে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শক্তি, সাহস ও অধ্যবসায় কী, তা পরিবারগুলো প্রতিদিনই আমাদের শিখিয়ে চলছে।
ইউনিসেফ বলছে, কভিড-১৯ কক্সবাজারে বসবাসরত চার লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশুর জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো মার্চ থেকে ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। প্রায় তিন লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোর-কিশোরী তাদের শিক্ষাকেন্দ্রের বাইরে রয়েছে। বাবা-মা ও সেবাদানকারীদের সম্পৃক্ত করে এবং ওয়ার্কবুক ও ভিজ্যুয়াল এইড প্রদানের মাধ্যমে বাড়িতে শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে ইউনিসেফ ও এর সহযোগীরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরা একই সঙ্গে কভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য এবং হাইজিন বিষয়ক বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, ইউনিসেফ এবং সহযোগীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ সম্পূরক দিতে অভিযান পরিচালনা করে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক লাখ ৫৪ হাজার শিশুর কাছে এই ভিটামিন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যেসব শিশুকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তাদের ৯৭ শতাংশের কাছেই তা পৌঁছানো গেছে।