রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

সংক্ষুদ্ধ হলে এনআই খানকে কোর্টে আসতে হবে: হাইকোর্ট

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৫ জন নিউজটি পড়েছেন

কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত পলাতক পিকে হালদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৫ নাগরিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তদন্তের স্বার্থে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে দুদক এসব নাগরিককে প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

পিকে হালদার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই আদেশ প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছে, এটা তো একটা ইনোসেন্ট (নিষ্পাপ) অর্ডার। এই আদেশে কেনো এতো ভয়? আমাদেরকে তো অনেক চিন্তাভাবনা করেই আদেশ দিতে হয়। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার (২০ জানুয়ারি) এই মন্তব্য করেন।

আদালত বলেন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার মামলার তদন্ত যেন সঠিকভাবে চলে এবং প্রকৃত দোষীদের যেন আইনের আওতায় এনে বিচার করা হয় সেটাই আমাদের আদেশের উদ্দেশ্য।

এর আগে নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটে জড়িত পিকে হালদার ও তার ৮৩ সঙ্গীর তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) দাখিল করা এই তালিকা আদালতে পেশ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। এই ৮৩ জনের বিরুদ্ধে দুদক কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা আজ আদালতকে অবহিত করতে দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খানকে বলা হয়েছে। ডিএজি জানিয়েছেন, এদের সকলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

পিপলস লিজিংয়ের প্রভিশনাল লিকুইডিটর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম মো. আসাদুজ্জামান খান হাইকোর্টে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করেন। তার পক্ষে আইনজীবী মিসবাহুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের আদেশে সাবেক সচিব এন আই খানকে পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান করা হয়। কিন্তু এই বেঞ্চ থেকে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু কোম্পানি বেঞ্চের আদেশে উনি চেয়ারম্যান ছিলেন ফলে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম আসার সুযোগ নাই। যদি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় তাহলে কোম্পানি বেঞ্চের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, আমাদের কোন আদেশটাকে আপনি সাংঘর্ষিক বলছেন? আমরা কোম্পানি ম্যাটারে কোন আদেশ দেইনি। আমরা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিষয়টি দেখছি। আর যদি মামলার তদন্তের স্বার্থে আপনার নাম আসে তাহলে কি ডাকা যাবে না? দুর্নীতির কোন অভিযোগ পেলে দুদক যে কাউকেই আইন অনুসরণ করে তলব করতে পারে। যদি এন আই খান আমাদের আদেশে সংঘবদ্ধ হয়ে থাকেন তাহলে উনাকেই কোর্টে আসতে হবে। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কেন? আর আপনি তো এন আই খানের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি? আপনি অযথাই ঝামেলা বাধানোর চেষ্টা করছেন। এ ধরনের শুনানি আদালত অবমাননাকর।

হাইকোর্ট বলেন, অর্থ পাচারে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ থাকার পর কেউ যদি দেশের বাইরে চলে যায় তখন জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হলে তাকে ডেকে পাওয়া যাবে না। এ কারণে ২৫ নাগরিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, পিকে হালদার ও অর্থ পাচার বিষয়ে আপনারা ৪/৫টি আদেশ দিয়েছেন। এর একটি আদেশও কোম্পানি বেঞ্চের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়নি।

উজ্জ্বল কুমার নন্দীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, কোম্পানি ম্যাটার নিষ্পত্তির জন্য বেঞ্চ রয়েছে। অর্থ পাচারের অপরাধের সঙ্গে যদি আপনারা ফাইন্যান্সিয়াল ম্যাটারে কোন আদেশ দেন তাহলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English