বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে ৫ জানুয়ারি এক কালিমালিপ্ত দিন। ২০১৪ সালের এই দিনে সারাদেশে ভোটার ও বিরোধী দলের প্রার্থীবিহীন একতরফা বিতর্কিত, প্রতারণামূলক, হাস্যকর ও শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রহসনমূলক একদলীয় পাতানো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের কলঙ্কিত রেকর্ডকে ভেঙে ফেলে। একতরফা নির্বাচনী করে সরকার অবাধ নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই জাদুঘরে পাঠিয়েছে।’
মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। ২০১৪ সালের এই দিনে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচন বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করে। বিএনপি একতরফা ভোটের প্রতিবাদে এদিন ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
রিজভী বলেন, ‘সরকার গত ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে করেছে পরাধীন। স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের অধিকার ও ইচ্ছাকে ধ্বংস করা হয়েছে, গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে সংবিধান, গণতন্ত্রকে। এখন জনগণ জানে, যে কোন নির্বাচনের আগে নৌকা প্রতীক টেন্ডারে তোলা হয়। কারণ নৌকা প্রতীক পাওয়া মানে নির্বাচিত হওয়া। এভাবে আওয়ামী লীগ এখন ভোট ডাকাতলীগে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী, গুম-খুন বাহিনী, দখল-লুটেরা বাহিনী, ধর্ষক বাহিনী লণ্ডভণ্ড করে চলেছে গোটা দেশ। এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যার জন্য বন্দি করে রাখা হয়েছে। গত এক যুগ আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় বসে থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির উৎসব করে চলেছে। কেবল জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে পেশাজীবি সংগঠনের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনরা ভোটার বিহীন নির্বাচনের ভাইরাস সংক্রমিত করেছে। এখন ভোট মানেই প্রহসন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা জাতীয় নির্বাচন সবই ছিল দেশী-বিদেশী গভীর চক্রান্তের নির্বাচন।’
সংবাদ সম্মেলনের দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন