দেশ ও জনগণের স্বার্থে মিথ্যাচার, প্রতিহিংসা, কূটতর্ক ও ব্লেমগেমের রাজনীতির পরিবর্তে ক্ষমতাসীনদেরকে জনগণের আস্থা অর্জনের আহবান জানিয়েছে বিএনপি। এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার সমস্ত গণমাধ্যমকে কব্জা করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার-প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারটি একাধারে প্রায় এক যুগ ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে। একটি রাজনৈতিক দলের একটানা এতদিন ক্ষমতায় থাকার পর, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের পরিবর্তে, এতদিন তাদের নিজেদের সাফল্যের কথা বলার মতো সক্ষমতা অর্জন করার কথা ছিল। অথচ গণতন্ত্র হত্যা, মানুষ খুন, গুম, দুর্নীতি আর টাকা পাচার ছাড়া গর্ব করে বলার মতো এই সরকারের কোনো সাফল্য নেই। প্রতিটি মন্ত্রণালয়, দপ্তর-অধিদপ্তর, সেক্টর, বিভাগ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই দুর্নীতি-লুটপাট-অবিচার-অনাচার আর প্রতারণায় নিমজ্জিত। সর্বক্ষেত্রে এমন পাহাড়সম দুর্নীতি-প্রতারণা আর ব্যর্থতা আড়ালের জন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছে। বিচারের রায় কার্যকর করতে গিয়ে অভিযুক্তদের একের পর এক ফাঁসির রায়ও কার্যকর করছে। হত্যাকাণ্ডের বিচারের পরও প্রায়শ:ই আওয়ামী লীগ এবং জাসদ নিজেরাই একে অপরের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত। আওয়ামী লীগের অভিযোগ শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের জন্য জাসদ দায়ী। আবার জাসদের অভিযোগ শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগের।
তারা প্রমাণ দিয়ে বলেন, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। এবার হঠাৎ করেই শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম জড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা মনে করি, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই শহীদ জিয়ার সংশ্লিষ্টতার কোনই তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারের জবাব দিয়ে ভিত্তিহীন একটি অভিযোগের গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন আছে বলে বিএনপি মনে করেনা। কারণ, শেখ হাসিনা কিংবা ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় ইতিহাস রচিত হয় না, ইতিহাস উদ্ভাসিত হয় তার আপন আলোয়। ফলে তাদের কথায় আওয়ামী লীগ আনন্দিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের কাছে তাদের কথার গুরুত্ব নেই, জনগণ তাদের কথা বিশ্বাসও করেনা। জনগণ যদি তাদের কথা বিশ্বাস করতো তাহলে বারবার তাদেরকে বিনা ভোটে কিংবা নিশিরাতের হিসাব নিকাশে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে হতোনা।
রুহুল কবির রিজভী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উদৃতি করে বলেন, দেশ বাঁচাতে মানুষ বাঁচাতে কারো আদেশের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। সময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে যার যার নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে গুম, খুন, অপহরণ-দুর্নীতি-অন্যায়-অবিচার-অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান।
রিজভী বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের প্রতিটি মানুষকে বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে ‘প্রত্যেক শিশুর জন্য বিনামূল্যে ‘বিসিজি টিকা’ দানের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, একইভাবে বর্তমানেও দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা পাওয়া সকল নাগরিকের অধিকার। এটি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকার ইস্যু হওয়া উচিত দেশের মানুষের জন্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহে দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন না’। কারণ ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজ ও প্রতারকদের কারণে বিশ্বের দরবারের বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। দেশে দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। সুতরাং করোনা-ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাতে আর কোনো কেলেংকারী না ঘটে। স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণ বিশ্বাস করে একমাত্র সেনাবাহিনীই পারে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সঠিকভাবে প্রতিটি মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে।