রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

‘সরল বিশ্বাসে’ করা ভুলের জন্য দায়ীরা যেভাবে পার পান

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুল তদন্তের কারণে ১৫ বছরের সাজার পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে সাজা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন নিরাপরাধ মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ওই সাজা বাতিল করে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ভুল তদন্তের ব্যাপারে দুদকের আইনজীবী বলেছিল, তদন্তকারী কর্মকর্তা ‘সরল বিশ্বাসে’ ভুল করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট আইনে থাকা ‘সরল বিশ্বাসে ভুলের’ কথা তুলে ধরে এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়ে তদন্তকারীদের অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

‘সরল বিশ্বাস’ কীভাবে প্রমাণ করা সম্ভব- এই প্রশ্নও রয়েছে মানবাধিকার কর্মীদের।

বিভিন্ন মামলায় ভুল নামের ও ঠিকানার কারণে নিরাপরাধ ব্যক্তিরা বছরের পর বছর গ্রেপ্তার থাকার বেশ কয়েকটি ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। মোহাম্মদ কামরুল ইসলামকে বিচার পেতে ১৮ বছর ধরে পুলিশ-তদন্ত এবং কোর্টে ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে তিনি হাইকোর্টে এসে দুদকের তদন্তের ভুল প্রমাণ করে মামলার সাজা থেকে রেহাই পেলেন।

এরআগে নোয়াখালীতে এসএসসির নম্বরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। সেই অভিযুক্তের ঠিকানা ভুল দেয়া হয়েছিল মামলায়।

ওই মামলা হওয়ার ১০ বছর পর দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট দিয়েছিলেন এবং এত বছরের তদন্তের পরও অভিযুক্তের ঠিকানায় ভুল থেকে যায়। ওই নাম ঠিকানার সাথে মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের নাম-ঠিকানা মিলে যাওয়ায় অপরাধ না করেও নোয়াখালীর আদালতে তার সাজা হয়েছিল।

মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেছেন, হাইকোর্ট থেকে অব্যাহতি পেয়ে তিনি এখন নতুন জীবন পেয়েছেন বলে মনে করছেন।

‘তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠিকানা ভুল করায় ও আসল আসামির ঠিকানা যাচাই না করে আমাকে হয়রানি করা হয়। আমি আসলে অর্থনৈতিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি হাইকোর্টে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট থেকে আমি মুক্তি পেয়েছি। আমি খুব খুশি।’

এখন দুদকের ভুল তদন্তের বিষয় আবারও আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ ঘটনায় হাইকোর্টে শুনানিতে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, তদন্তকারী কর্মকর্তা ‘সরল বিশ্বাসে’ ভুল করেছেন।

তদন্তকারীদের রক্ষাকবচ?
মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান বলেছেন, ‘সরল বিশ্বাসে’ ভুল হতে পারে- এই বিষয়টি দুর্নীতি দমন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। আর এর সুযোগ নিয়ে একের পর এক নিরাপরাধ ব্যক্তির হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটলেও তদন্তকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।

‘অনেকজনকে নামের ভুল, বাবার নামের ভুল বা ঠিকানা মিলে যাওয়ায় আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে ওরফে ওরফে দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এই যে আইন পরিবর্তন করে সরল বিশ্বাস শব্দটা দিয়ে তদন্তকারীদের রক্ষা করা হয়েছে, এর ফলে আরেকজনও তদন্ত করে বলতে পারে সরল বিশ্বাসে ভুল হয়েছে। তাহলেতো তদন্তের প্রয়োজন ছিল না,’ তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি মনে করেন, এই সরল বিশ্বাসের যথাযথ ব্যাখ্যা করা বা প্রমাণ করা যায় না।

তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ভুল তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদন্তকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনে কোন বাধা নেই।

‘আজকাল কিন্তু প্রায় সব আইনেই আমাদের দণ্ডবিধি আছে, তাতে মিথ্যা মামলা করলে শাস্তির ব্যবস্থা আছে। আর এই ঘটনায় তদন্তে ভুল হলে ব্যবস্থা নিতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।’

মন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘সরল বিশ্বাসে ভুল হয়েছে কিনা-সেটা আগে দেখা দরকার। তা না করে সরল বিশ্বাসে ভুল বলাটা আমি মনে করি ভয়ংকর বিষয়। আর ‘সরল বিশ্বাসে ভুল’ যেটার কথা আইনে বলা আছে, সেই ব্যাখ্যা এখানে দেয়া যায় না,’ তিনি বলেন।

মানবাধিকার কর্মীরা দুদকের তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের দক্ষতা আরো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English