রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

সালাম ও মুসাফাহতে রয়েছে মাগফিরাত

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৪ জন নিউজটি পড়েছেন

মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় অভিবাদনের বিভিন্ন রীতিনীতি প্রচলিত। অভিবাদন জানানোর ক্ষেত্রে সম্প্রদায় ও জাতিভেদে নিজেদের আদর্শ ও অভিরুচি অনুযায়ী বিভিন্ন শব্দ ও রীতি ব্যবহার হয়ে থাকে। হিন্দুরা নমস্তে, নমস্কার, আদাব এবং ইংরেজরা এড়ড়ফ গড়ৎহরহম, এড়ড়ফ ঊাবহরহম, এড়ড় ঘরমযঃ শব্দ ব্যবহার করে থাকে। প্রাক-ইসলামী যুগে আরবরা বিভিন্ন আরবি বাক্যে অভিবাদন জানাত। ইসলাম আবির্ভাবের পর জাহেলি রীতির পরিবর্তে কুশল বিনিময়ের অত্যন্ত চমৎকার নিয়ম প্রচলিত হয়। ইমরান ইবনে হুসাইন রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘জাহেলি যুগে আমাদের পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতামÑ আল্লাহ তোমার প্রতি নেয়ামত দান করুন। আর তোমার সকালটা সুন্দর হোক।’ (আবু দাউদ : ৫২২৭)
সালাম ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। সালামের ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ বিন আমর রা: বলেন, ‘এক ব্যক্তি রাসূল সা:কে জিজ্ঞেস করলেন, ইসলামে কোন কাজটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, তুমি অপরকে খাদ্য খাওয়াবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে।’ (বুখারি : ১০১৩) দু’জন মুসলমানের পরস্পর সাক্ষাতে কোনো কথা বলার পূর্বে সালাম প্রদানের মাধ্যমে কুশল বিনিময় করতে হয়। রাসূল সা: বলেছেন, ‘কথা বলার পূর্বে সালাম দাও।’ (তিরমিজি : ২৬৯৮) অন্য এক হাদিসে এসেছেÑ আবু উমামা রা: থেকে বর্ণিত, ‘রাসূল সা: বলেছেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকটতম ওই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম দেয়।’ (ফাইজুল কাদির) তবে সালাম দেয়ার সময় চেহারা হাস্যোজ্জ্বল রাখা সুন্নত। হাদিসে আছে, ‘প্রফুল্ল চেহারায় মানুষকে সালাম দেয়া এক প্রকার সদাকাহ।’ (বায়হাকি : ৮০৫৩) সালামের মাধ্যমে মানুষে মানুষে পরিচয় ঘটে, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। পারস্পরিক হিংসাবিদ্বেষ, শত্রুতা ও মন-মালিন্য দূর হয়। শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জিত হয় এবং সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। অনেক সওয়াব ও আল্লাহর রহমত অর্জিত হয়। সাহলো বিন হুনাইফ রা: বলেন, ‘রাসূল সা: বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলবে তার জন্য বিশটি নেকি লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’ বলবে তার জন্য তিরিশটি নেকি লেখা হবে। (শায়বানি : ১৯৭৮) আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা পাওয়ার অন্যতম একটি ওসিলা হলো সালাম। রাসূল সা: বলেন, নিশ্চয় ক্ষমার কারণসমূহ হতে অন্যতম কারণ হচ্ছে সালাম দেয়া এবং ভালো কথা বলা।’ (তিবরানি : ৪৬৯) রাসূল সা: আরো বলেছেনÑ ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমরা সালামের প্রচল ঘটাও। অপরকে খাবার খাওয়াও। আত্মীয়তা রক্ষা করো এবং মানুষ যখন ঘুমন্ত থাকে তখন নামাজ পড়ো। তাহলে নিরাপদে বেহেশতে যেতে পারবে।’ (ইবন মাজাহ : ৩২৫১) তবে সালামের জবাব যেন সুন্দর ও উত্তম হয়। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর যখন তোমাদেরকে যথাযোগ্য সম্মান সহকারে সালাম দেয়া হবে, তাহলে তোমরাও তার সালামের জবাব দাও; তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা তারই মতো করে ফিরিয়ে বল। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী। (সূরা নিসা : ৮৬)
অভিবাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যতম একটি বিষয় হলো মুসাফাহা। এটি সুন্নাত সম্মত একটি জায়েজ কাজ। হাদিসে এসেছে, ‘মুসাফাহা হলো সালামের পরিপূরক।’ (তিরমিজি : ২৮৭৪) একজনের সাথে অন্যজনের হাত মিলানোই মুসাফাহা। ইংরেজিতে বলা হয় ঐধহফ-ংযধশব। তবে মুসাফাহা দুই হাতে করতে হয়। পরস্পর করমর্দন করলে মনের কালিমা দূর হয়, একে অপরকে ক্ষমা করে দেয়। বারা ইবনে আজিব রা: বলেন, ‘রাসূল সা: বলেছেন, দুইজন মুসলমান যদি সাক্ষাতের পর মুসাফাহা করে তবে তারা পৃথক হওয়ার আগেই তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। (তিরমিজি : ২৭২৭) রাসূল সা: থেকে আরো বর্ণিত আছে, হুজায়ফা রা: বলেন, যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি অপর মুমিন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করে। অতপর সালাম দেয় এবং তার হাত ধরে মুসাফাহা করে, তখন তাদের গুনাহসমূহ এমনভাবে ঝরে যায় যেভাবে গাছের পাতা ঝরে পড়ে। (তিবরানি) আগমন ও বিদায়কালে মুসাফাহা করা রাসূলের সা: আমল থেকেও প্রমাণিত।
মহান আল্লাহর ক্ষমার আশায় সালাম ও মুসাফাহার প্রচলন ও প্রসার ঘটানো উচিত। তবে তা যেন উত্তম পন্থায় হয়। এই সুন্নাত পালন করতে গিয়ে কোনোরূপ ফেতনা ও দীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন না হয়। স্থান, কাল ও পাত্রভেদে সালাম ও মুসাফাহার হুকুম জেনে আমল করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English