নিহত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বোনের করা হত্যা মামলায় চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিতে আবেদন করেছে র্যাব, যাদের ইতোমধ্যে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সিনহা হত্যা: প্রদীপ-লিয়াকতসহ ৩ পুলিশ র্যাবের রিমান্ডে
আদালত পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ জানান, কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহর আদালতে এই চারজনের ১০ রিমান্ড চেয়ে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ১২ অগাস্ট আবেদনটি শুনানির জন্য রেখেছে।
এরা হলেন কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, এই চার আসামিকে এর আগে র্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
“তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে নতুন করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়।”
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় হত্যা ও মাদক আইনে এবং রামু থানায় মাদক আইনে মোট তিনটি মামলা দায়ের করে।
এসব মামলায় নিহত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা শাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেবনাথকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
এছাড়া ৫ অগাস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় গত ৬ অগাস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ সাত আসামি কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
ওই সময় র্যাবের পক্ষে প্রত্যেক আসামির ১০দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ এবং এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। বাকি চার জনকে দুই দিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে অনুপস্থিত দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় আদালত।
পুলিশের দায়ের করা রামু থানার মামলায় সিনহার সহযোগী স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী শিপ্রা রানী দেবনাথ রোববার (৯ অগাস্ট) জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
অপরদিকে, সোমবার (১০ অগাস্ট) টেকনাফ থানায় দায়ের করা দুইটি মামলায় সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা শাহেদুল ইসলাম সিফাত জামিনে কারামুক্ত হন। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ সকালে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে সিফাতের মামলা দুটি আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তদন্তের ভার র্যাবকে দিয়েছে।