শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

সিলেটে ৪৪ ঘণ্টায় লাখ টাকা বিল দাবি এক হাসপাতালের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০
  • ৫৩ জন নিউজটি পড়েছেন

সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে মাত্র ৪৪ ঘণ্টায় এক রোগীর বিল এসেছে প্রায় এক লাখ টাকা। রোগী করোনা আক্রান্ত বা আইসিইউতেও ছিলেন না।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার এমন বড় অংকের বিলে রোগীর স্বজনরা হয়েছেন হতভম্ব, সচেতন ব্যক্তিরা হয়েছেন অবাক ও ক্ষুব্ধ।

সচেতন মহলের বক্তব্য করোনাকালেও যদি একটি হাসপাতাল এমন ‘গলাকাটা বিল’ হাতে ধরিয়ে দেয় তবে দিন দিন মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হতে বাধ্য। মহামারি করোনায় আক্রান্ত হলেও মানুষ আর হাসপাতালমুখী হতে চাইবে না।

জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত (১৮ জুলাই) ১টার দিকে একটু শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে ইনফেকশন নিয়ে সিলেট শহরতলির মাউন্ট এডোরা হসপিটালে মিনা বেগম (৬৫) নামের এক নারীকে ভর্তি করান তার পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত রাত (১৮ জুলাই) ১টা ১৪ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৬ মিনিটি পর্যন্ত ৪৩ ঘণ্টার একটু বেশি সময় মিনা বেগম ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে অক্সিজেন ও প্রাসঙ্গিক ওষুধ দেয়া হয়। তবে ওই মহিলা রোগী হাসপাতালটির করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থাকলেও তিনি করোনাক্রান্ত ছিলেন না।

একদিন থাকার পর শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হলে মিনা বেগমকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চান স্বজনরা। কিন্তু ছাড়পত্রের সঙ্গে মাউন্ট এডোরা হসপিটাল কর্তৃপক্ষের দেয়া বিল দেখে আঁতকে উঠেন মিনা বেগমের ছেলে এএম নিশাত।

মাত্র ৪৪ ঘণ্টা চিকিৎসা নেয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৯৩ হাজার ৭০ টাকার বিল ধরিয়ে দেন নিশাতের হাতে। যদিও বিলের মধ্যে আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ ছিল কোন খাতে কত টাকা বিল এসেছে। বিলের মধ্যে অন্যান্য সবকিছুতে আলাদা করে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে আবার ৪৩ ঘণ্টার জন্য শুধু ‘সার্ভিস চার্জ’ ধরা হয় সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। যেটিকে ‘গলাকাটা বিল’ বলেই মন্তব্য করছেন সচেতনরা।

এ বিষয়ে এএম নিশাত বলেন, আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ না করেই চিকিৎসার নামে কী কী করেছে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ আমরা জানি না। পরবর্তীতে মাত্র ৪৪ ঘণ্টায় ৯৩ হাজার ৭০ টাকার একটি বিল আমাদেরকে দিয়ে দেয় তারা। বিল নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো প্রতিকার পাইনি।

এ ব্যাপারে মাউন্ট এডোরা হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. কেএম আকতারুজ্জামান বলেন, ‘ওই রোগীকে করোনা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, তাই বিল বেশি এসেছে। কারণ-সাধারণ ইউনিটের চাইতে করোনা ইউনিটের মেইনটেনেন্স অনেক ব্যয়বহুল। ডাক্তার-নার্স থেকে নিয়ে ওই ইউনিটের সব স্টাফের বেতন তিনগুণ বেশি। উপসর্গযুক্ত বা আক্রান্ত রোগীর শরীর ঘণ্টায় ঘণ্টায় চেকআপ করতে হয়, বিভিন্ন টেস্ট করতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে বিল বেশি আসে।’

দুই দিনের চেয়েও কম সময়ে এত টাকা সার্ভিস চার্জ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আয়া-মাসির বেতন থেকে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার খরচসহ বিবিধ বিষয় এই সার্ভিস চার্জের ভেতরে। নিয়ম অনুযায়ীই আমরা বিলের মোট টাকা থেকে আরও ২৫% বাড়তি টাকা সার্ভিস চার্জ হিসেবে ধরে থাকি। বিল আসলে মোটেও বেশি নয়।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা খোঁজখবর নিতে শুরু করলে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দ্রুত বিষয়টি সমাধান করেন। বিকাল ৫টার দিকে ওই রোগীর ছেলে নিশাত জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই। বিষয়টির সুন্দর সমাধান হয়েছে। তিনি ৭০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English