অং সান সু চিকে আটক করে ক্ষমতা দখল করলো মায়ানমারের সেনাবাহিনী। সোমবার প্রথম প্রহরে দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে সূচিকে গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েক ঘন্টা পর এক বছরের জন্য জারি করা হয় জরুরি ব্যবস্থা। সামরিক বাহিনীর একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তা নিশ্চিত করা হয়।
নির্বাচনী ফল নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে কদিন থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আবারও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলে সেনাবাহিনী এর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনে এবং ক্ষমতা দখলের ইঙ্গিত দেয়।
তা-ই ঘটলো এখন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কমান্ডার-ইন-চীফ মিন অং হ্লেইংয়ের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। রাজধানী নেপিতাউ এবং ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা মায়ানমারের নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টার বিরোধিতা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাধা দেওয়ার বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনী ব্লিঙ্কেন সু চিসহ নাগরিক সমাজের নেতাদের মুক্তি দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, “আমরা বার্মার মানুষদের গণতন্ত্র, মুক্তি, শান্তি ও উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আছি।”
ব্লিঙ্কেন আরো বলেন, তাদের সেনাবাহিনী যা করেছে তা থেকে সরে আসতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন বলেন, “আমরা মায়ানমারের সেনাবাহিনীকে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানাই।” তিনি সমস্যা সমাধানে আইনানুগ উপায় খুঁজে বের করা এবং আটক নেতাদের মুক্তি দেওয়ার আহবান জানান।