শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার গণপরিবহণে অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া কমানোর দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

সুনামগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলিক সড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উপজেলা সড়কে চলাচল করা বাস, লেগুনা, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ সকল ধরণের গণ-পরিবহনে সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছে যাত্রী সাধারণ। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী বহনের কথা থাকলেও অধিকাংশ পরিবহনে সেটি করা হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন। গণ-পরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায় করাকে যাত্রীদের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীসহ সচেতনমহলের।

যাত্রীরা জানায়, করোনা পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিটি পরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হতো। বাসসহ অন্য পরিবহনে সিটিং সার্ভিস নাম দিয়ে ভাড়া বাড়ালেও গাড়িতে ঠিকই কয়েকগুণ বেশি যাত্রী বহন করে আসছিল। সরকারের পক্ষ থেকে যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা বরাবরই উপেক্ষিত ছিল গণ-পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছে। যাদের দিয়ে আগে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা যায়নি তাদের দিয়ে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি কখনও নিশ্চিত করা যাবে না বলে জানান বিভিন্ন যাত্রী কল্যাণ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পূর্বে নানা অজুহাতে ভাড়া বাড়লেও কমানোর নজির নেই বলে জানান তারা। মহামারির মাঝে অতিরিক্ত এই ভাড়া পরবর্তিতে স্থায়ী রূপ নেয়ার শঙ্কা করছে যাত্রীরা। দ্রুত গণ-পরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করা, প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি যুক্ত করা, তেলের দাম কম রাখা, পরিবহনের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিতে সেনা নিয়ন্ত্রণে গণ-পরিবহন পরিচালনার পরামর্শ দেয়ার কথা জানিয়েছেন এসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

নিরাপদ সড়ক চাই সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুহিম তালুকদার বলেন, করোনার কারণে মানুষ চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। পরিবহনে এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হরে দাঁড়িয়েছে। একদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অন্য দিকে ৬০ ভাগ ভাড়া আদায় সাধারণ যাত্রীদের সাথে প্রহসন করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাড়া আগের অবস্থায় নিয়ে আসতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

সুনামগঞ্জ যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর বলেন, করোনার সুযোগে ব্যবসা করছেন কিছু পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা। ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া আদায় করলেও শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কাও করছে না পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। এখনই ভাড়া নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে এই অতিরিক্ত ভাড়া স্থায়ী করণের আন্দোলনে নামবে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়বে।

সুনামগঞ্জ বিআরটিয়ের মোটরযান পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, পরিবহনে অস্থায়ীভাবে ৬০ ভাগ ভাড়া আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রাণালয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাড়া আগের ন্যায় নির্ধারণ করা হবে। পরিবহনে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English